প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নাব্যতা সংকট, তীব্র স্রোত ও ঘাটের অভাবের কারণে প্রায় ৩০০ পণ্যবাহী ট্রাক পারাপারের জন্য অপেক্ষা করছে। এই অবস্থায় চালক ও সাধারণ যাত্রীদের দীর্ঘ সময় ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ফলে ঘাট সংলগ্ন এলাকায় পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।
আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকা পরিদর্শন করা হলে দেখা যায়, ঘাটের দিকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক। ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় থাকা এসব যানবাহনের চালক ও সহযোগীরা দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটাচ্ছেন। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারার কারণে তাঁরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ঘাট সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা নদীতে হঠাৎ করে তীব্র স্রোত এবং নাব্যতা সংকটের কারণে দৌলতদিয়া প্রান্তের অধিকাংশ ঘাটে ফেরি ভিড়তে পারছে না। বর্তমানে কেবল ৪ ও ৬ নম্বর ঘাট কোনো রকমে সচল রাখা সম্ভব হয়েছে। তবে প্রবল স্রোতের কারণে ৬ নম্বর ঘাটেও ফেরি ভিড়তে চরম বেগ পেতে হচ্ছে।
এছাড়া, পন্টুন এলাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭ নম্বর ফেরিঘাটটি নাব্যতা সংকটের কারণে গত প্রায় এক মাস ধরে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। এর ফলে সীমিতসংখ্যক ঘাটের মাধ্যমে যানবাহন পারাপার করতে গিয়ে ফেরি চলাচলের ওপর চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
বিআইডব্লিউটিসির (BIWTC) দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, বর্তমানে মাত্র দুটি ঘাট সচল রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ৭ নম্বর ঘাটটি নাব্যতা সংকটের কারণে প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। ঘাটগুলো সচল হলে যানজট ও পারাপারের সমস্যা থাকবে না। বর্তমানে ছোট-বড় মোট ৮টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।
ঘাটের সক্ষমতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক পন্টুন বা ঘাট সচল না থাকায় প্রতিদিনই দৌলতদিয়া প্রান্তে দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে দূরদূরান্ত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে দীর্ঘ সময় ঘাটে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন বাড়তি পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে, অন্যদিকে পচনশীল ও জরুরি পণ্য নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর বিষয়ে চালক ও ব্যবসায়ীরা চরম শঙ্কায় রয়েছেন।
এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিআইডব্লিউটিএ (BIWTA) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে নদীখনন (ড্রেজিং) করে নাব্যতা সংকট নিরসন এবং বন্ধ ঘাটগুলো অবিলম্বে সচল করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রী ও চালকরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন