প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
খুলনার পাইকগাছা ও সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মধ্যে যোগাযোগের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেতুর নির্মাণ কাজ এখনও পাঁচ বছরের পর শেষ হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যে কাজ ফেলে উধাও হয়ে গেছে, সেই কারণে ভাঙা সাঁকো ব্যবহার করে হাজার হাজার মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে।
সূত্র জানাচ্ছে, কপোতাক্ষ নদের ওপর শালিখা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর। এলজিইডির উদ্যোগে প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁকা-পাটকেলঘাটা সড়কে ৬৬ মিটার দীর্ঘ এই আরসিসি গার্ডার সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালের আগস্টে। কিন্তু ৬৫ শতাংশ কাজ শেষ করার পর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে ঠিকাদার ৪ কোটি ৪৫ লাখ, ৬৬ হাজার ৭২৩ টাকা তুলে নিয়েছে। এরপর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ও যন্ত্রপাতি রাতের অন্ধকারে সাইট থেকে সরিয়ে নিয়ে গেছে।
ফলশ্রুতিতে তালা উপজেলার খেশরা, শালিখা, বালিয়া, জালালপুর ও মাগুরা ইউনিয়নের মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো দিয়ে পার হচ্ছে। সাইকেল, ভ্যান, ইঞ্জিনভ্যান ও মোটরসাইকেল এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোর ওপর দিয়েও চলাচল করছে।
কাটিপাড়া বাজার, বাঁকা বাজার, পাইকগাছা, কয়রা, আশাশুনি ও সাতক্ষীরা জেলার সঙ্গে যোগাযোগের এই গুরুত্বপূর্ণ পথে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন।
এলজিইডি সূত্র জানাচ্ছে, ঠিকাদারকে একাধিকবার সতর্ক করার পরও সাড়া না পাওয়ায় ২০২৩ সালের ১০ মার্চ ২৮ দিনের চূড়ান্ত নোটিশ দিয়ে কাজ বাতিলের জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এস এ-জেডটি (জেভি)’ পুরোপুরি উধাও হয়ে যায়।
প্রতিষ্ঠানটির জিয়াউল হাসান টিটুর বক্তব্য জানতে তার মোবাইল নাম্বারে বেশ কয়েকবার ফোন দেওয়া হলেও নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা প্রকৌশলী শাফিন শোয়েব জানান, আপাতত শালিখা ব্রিজের কাজ বন্ধ রয়েছে। আমরা বারবার কার্যাদেশটি বাতিল করার জন্য জেলা অফিসে সুপারিশ করেছি। কাজটি বাতিল হলে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করে নতুন করে কাজ শুরু করা হবে।
পাঁচ বছর পার হলেও এই সেতুর কাজ শেষ হয়নি। ঠিকাদার পালিয়ে গেছে, কিন্তু প্রশাসনের কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেই। এই অবস্থায় ভোগান্তির শেষ কোথায়, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন