প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া দীর্ঘস্থায়ী সংঘটে নিহতের সংখ্যা একটি লাখ ছাড়িয়েছে। বুধবার সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন এন্ড ইভেন্ট ডাটা প্রোজেক্ট (এসিএলইডি) এ তথ্য জানিয়েছে।
এসিএলইডি জানায়, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান সহিংসতায় এখন পর্যন্ত মোট এক লাখ ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন এটি এশিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী সংঘাতগুলোর একটি।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনী নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতা থেকে চ্যুত করে এবং গণতন্ত্রপন্থী নেতা অং সান সু চিকে আটক করে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে আন্দোলনকারীদের অধিকাংশই বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সেই সংঘাত ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।
সরকারিভাবে নিহতের নির্ভরযোগ্য কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা না হলেও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। সাধারণ মানুষেরা যুদ্ধের এই সমস্যার সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছেন। বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ এবং সংঘর্ষের ফলে অসংখ্য পরিবার তাদের স্বজন হারিয়েছে।
রাখাইন রাজ্যের ৪৯ বছরের বাসিন্দা থেইন আয়ে নু বলেন, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক বিমান হামলায় তার স্বামী নিহত হয়েছেন। তিনি যোগ করেন, “এই দুর্ভোগ যেন শেষ হওয়ার নয়।” তিনি জানিয়েছেন, কী কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করবেন, সেটিও তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না।
সাম্প্রতিক সময়ে সীমিত পরিসরে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত বহু এলাকায় ভোটগ্রহণ হয়নি। অং সান সু চির দলও কার্যত নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। এজন্য গণতন্ত্রপন্থী মহল এই নির্বাচনকে ক্ষমতা ধরে রাখার কৌশল হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোও শান্তি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের কারণে ৩৭ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সেইসঙ্গে দারিদ্র্য এবং খাদ্যসংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে প্রতি পাঁচজনের একজন তীব্র খাদ্যসংকটে ভুগছে।
সংঘাত পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশের মধ্যে এক হাজার ২০০টিরও বেশি সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। ২০২৩ সালের শেষ দিকে বিদ্রোহীরা বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করলেও পরে সামরিক বাহিনী আবারও কৌশলগত সুবিধা ফিরে পায়।
এদিকে সৈন্যসংকট মোকাবিলায় ২০২৪ সালে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার আইন চালু করে সামরিক সরকার। এর কারণে প্রায় ৫০ হাজার নাগরিককে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। একজন পালিয়ে আসা সাবেক সেনা বলেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকরা জানাচ্ছেন, মিয়ানমারের এই গৃহযুদ্ধের প্রভাব সীমান্ত পেরিয়েও ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ এবং থাইল্যান্ডে শরণার্থীর সংখ্যা বাড়ছে, ফলে শরণার্থী শিবিরগুলোতে চাপও ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এর সঙ্গে মাদক উৎপাদন, পাচার ও অনলাইন প্রতারণা চক্রের বিস্তারও সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন