প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় তীব্র শিক্ষক সংকটে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার ১৪৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ মোট ৯৩৬টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে ১১৭টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ৭০টি বিদ্যালয়ে নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। পাশাপাশি পিটিআই প্রশিক্ষণে ২২ জন এবং মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন আরও ১২ জন শিক্ষক। ফলে শিক্ষক সংকটে অনেক বিদ্যালয়ে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কালকিনি উপজেলায় ১৪৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ মোট ৯৩৬টি অনুমোদিত শিক্ষক পদ রয়েছে। এর মধ্যে ১১৭টি পদ বর্তমানে শূন্য। অন্যদিকে ২২ জন শিক্ষক পিটিআই প্রশিক্ষণে এবং ১২ জন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যাও কমে গেছে।
বিশেষ করে উপজেলার চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকা হিসেবে পরিচিত খাসেরহাট ও ডিগ্রিরচর ক্লাস্টারের বিদ্যালয়গুলোতে পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। এসব এলাকায় ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও শিক্ষা কার্যক্রম এমনিতেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। তার ওপর শিক্ষক সংকট থাকায় কাঙ্ক্ষিত মানের পাঠদান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
৭০টি বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় অনেক জায়গায় সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক কাজ সামলাতে গিয়ে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদানেও ব্যাঘাত ঘটছে।
অভিভাবক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের স্কুলে অনেক বছর ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকও সংকটে রয়েছেন। এতে সন্তানদের লেখাপড়া ঠিকমতো হচ্ছে না। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করার দাবি জানাই।
একাধিক স্কুলের শিক্ষার্থী জানায়, ‘শিক্ষক কম থাকায় স্যাররা ঠিকমতো ক্লাস নিতে পারেন না। একটি ক্লাসে পড়ানোর পর অন্য ক্লাসে যেতে হয়। এতে আমাদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে।
এক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘অনেকদিন ধরে আমরা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছি। অফিসের কাজ সামলাতে গিয়ে নিয়মিত ক্লাসে গিয়ে পাঠদান করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে।
কালকিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘৭০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। দীর্ঘদিন আইনি জটিলতা বা মামলার কারণে এসব পদে নিয়োগ আটকে থাকলেও সম্প্রতি বিষয়গুলো নিষ্পত্তির মুখ দেখেছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, বিশেষ করে চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে দ্রুত শিক্ষক সংকট নিরসন করতে হবে। শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ ও স্থায়ী প্রধান শিক্ষক পদায়নের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন