প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রেফারিং নিয়ে ক্ষুব্ধ মিশর, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ১৬–এর ম্যাচে ৩-২ গোলের নাটকীয় হারের পর। মিশরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকোর দাবি, 'পাতানো' ছিল ম্যাচটি, কারণ বেশ কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত রেফারি তার দলের বিপক্ষে নিয়েছেন।
বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন ঘটানোর পথে ছিল মিশর আটলান্টা স্টেডিয়ামে। ম্যাচের প্রায় ৮০ মিনিট ধরে তারা ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল, কিন্তু বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা অসাধারণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয়ী হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের কয়েকটি বিতর্কিত মুহূর্তে জিকো ছিলেন অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। তার করা একটি গোল ভিএআরের সহায়তায় বিল্ড-আপে ফাউলের কারণে বাতিল করা হয়। এদিকে, ফার্নান্ডেজের জয়সূচক গোলের ঠিক আগে পেনাল্টি বক্সে মোহাম্মদ সালাহকে ফেলে দেওয়ার দাবি করলেও রেফারি পেনাল্টি দেননি।
ম্যাচ শেষে ক্ষুব্ধ জিকো মন্তব্য করেন, 'এটি একটি পাতানো ম্যাচ ছিল। এটি আমাদের দোষ নয়। সেই রেফারি... মনে হচ্ছে ঠিক যেন ম্যাচটি আগেই নির্ধারিত ছিল। আমরা ২-০ গোলে এগিয়ে ছিলাম, তারপরও তিনি আমাদের বিপক্ষে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর্জেন্টিনাকে আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের আগাম অভিনন্দন জানাই—এটা মনে হচ্ছে। আমরা ভেবেছিলাম, ম্যাচ শেষ হয়নি। জানতাম, আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুখোমুখি।'
তিনি আরও বলেন, 'রেফারির পারফরম্যান্স ছিল অসন্তোষজনক, তিনি অন্যায় করেছেন। তার পক্ষপাত স্পষ্ট ছিল। ম্যাচের শুরু থেকেই তিনি আমাদের বিপক্ষে ছিলেন। তিনি চাননি, আমরা জিতি। ম্যাচ শুরুর আগেই জানতাম, আমরা শক্তিশালী এবং শিরোপার প্রধান দাবিদারের বিপক্ষে খেলছি। কিন্তু যদি তারা নিজেদের যোগ্যতায় জিততো, তবে বিষয়টা ভিন্ন হত।'
তবে বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জন্য মিশরের বিদায় হয়ে গেছে, এমনটা বলা যাবে না।
নির্ধারিত সময় শেষ হতে মাত্র ১২ মিনিট (এবং ইনজুরি টাইম) বাকি থাকতে তারা ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল। এত বড় লিড ধরে রাখতে না পারার দায় তবে তাদেরও। বিতর্ক থাকলেও, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এমন সুবিধাজনক অবস্থান থেকে ম্যাচ হারানোর জন্য মিশর নিজেদেরও দায় এড়াতে পারে না।
নিজের প্রথম গোল বাতিল হওয়ার হতাশা কাটিয়ে জিকো পরে আবার গোল করে মিশরকে পুনরায় দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে দিয়েছিলেন।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত লিওনেল মেসি আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তাকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় বলা হয়। আর্জেন্টিনা অধিনায়কের অনুপ্রেরণায় টানা তিনটি গোল করে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা, এবং হৃদয়ভাঙা বিদায় নিতে হয়েছে মিশরকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন