প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি তিন দিনব্যাপী কবি আল মাহমুদ স্মরণোৎসব আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে কবি আল মাহমুদ গবেষণা কেন্দ্র এবং স্মৃতি পরিষদের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সভাপতি মো. ইব্রাহিম সাদাত এবং সাধারণ সম্পাদক লিটন হোসাইন জিহাদ। সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং কবি আল মাহমুদের মামা হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি চিন্তা-ভাবনা ও লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এই সময় পরিষদের উপদেষ্টা এইচ. এম. বাশারও উপস্থিত ছিলেন।
বাংলা সাহিত্য এবং সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক, কবি এবং সাহিত্যিক আব্দুল হাই সিকদারকে ‘সোনালী কাবিন পদক-২০২৬’ প্রদান করা হবে। আগামী ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এই তিন দিনব্যাপী কবি আল মাহমুদ স্মরণোৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এ পদক তুলে দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী কবি আল মাহমুদের সাহিত্য, জীবনদর্শন ও সৃজনকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা, তাঁর সাহিত্যচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করা এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে ভূমিকা রাখাই স্মরণোৎসবের মূল উদ্দেশ্য। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলা সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য ‘সোনালী কাবিন পদক’ প্রদান করা হবে।
আগামী ৯ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন স্থানে সাহিত্য, গবেষণা ও সংস্কৃতিভিত্তিক নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
নতুন এই স্মরণোৎসবের সূচনা ৯ জুলাই সকালে কবি আল মাহমুদের কবর জিয়ারত এবং দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে হবে। এরপর বিকেলে নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ, সাহিত্য আড্ডা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
১০ জুলাই সকালে কবির রচনা পাঠ এবং স্কুল-কলেজ পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হবে। এরপর বিকেলে ‘গদ্য সাহিত্যে আল মাহমুদ’ এবং রাতে ‘কবিতায় আল মাহমুদ’ শীর্ষক দুটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভাগুলিতে দেশের বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেবেন।
১১ জুলাই বিকেলে কবিতা পাঠ এবং স্কুল পর্যায়ের কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণের পর একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে ‘সোনালী কাবিন পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। তিনি কবি আব্দুল হাই সিকদারের হাতে ‘সোনালী কাবিন পদক-২০২৬’ তুলে দেবেন। পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের সভাপতি মো. ইব্রাহিম সাদাত এবং সাধারণ সম্পাদক লিটন হোসাইন জিহাদ বলেন, কবি আল মাহমুদের সাহিত্য, চিন্তা ও দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এই স্মরণোৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী ও সাহিত্যপ্রেমীদের অংশগ্রহণে আয়োজনটি সফল হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি স্মরণোৎসব সফল করতে সবার সহযোগিতা ও উপস্থিতি কামনা করেন তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন