প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একমাত্র বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বুশেহর প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর এই তথ্য জানিয়েছেন। খবরটি এএফপির দ্বারা প্রকাশিত হয়েছে।
বুশেহর প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর এহসান জাহানিয়ান জানান, আজকের হামলায় বুশেহর প্রদেশের বেশ কয়েকটি স্থানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এদের মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশেপাশের এলাকা, চোগাদাক শহরের একটি সামরিক ঘাঁটি, এবং প্রদেশের দক্ষিণে অবস্থিত একটি মাছ ধরার ঘাট। তবে, এই হামলার ফলে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
চোগাদাক শহর, যা বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, সেখানে বাসিন্দারা কিছু সময়ের জন্য একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনেন। এই হামলার খবর এভাবেই সামনে আসে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ চলাকালীন এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় এর আগে সামরিক হামলা হয়েছিল।
গত এপ্রিল মাসে জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ সতর্ক করে বলেছিল, এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশের এলাকা লক্ষ্য করে যেকোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র বা সামরিক হামলা, পারমাণবিক নিরাপত্তার জন্য একটি বাস্তব ও মারাত্মক বিপদের সৃষ্টি করতে পারে। বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে এই ধরনের হামলা অবশ্যই বন্ধ হওয়া উচিত।
বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যা রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত হয়েছে, সেখানে বর্তমানে একটি কার্যকর রিয়্যাক্টর বিদ্যমান এবং আরও দুটি রিয়্যাক্টর বর্তমানে নির্মাণাধীন অবস্থায় রয়েছে। তবে, যুদ্ধ পরিস্থিতি তিরণ হওয়ার পর রাশিয়া ইতিমধ্যে এই কেন্দ্র থেকে তাদের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
অলাভজনক যুদ্ধ পর্যবেক্ষণ সংস্থা এসিএলইডি-এর প্রতিবেদনের অনুযায়ী, চলমান এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের এলাকায় চারবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এবারের হামলাটি পারমাণবিক কেন্দ্রের সবচেয়ে কাছাকাছি হওয়ায় তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন