প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রংপুরের ডিবি পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ পালিয়ে গেছেন মমতাজুর রহমান, যিনি একজন মাদক ব্যবসায়ী এবং বিএনপি নেতা। গভীর রাতে হাতকড়া উদ্ধার করা হলেও পুলিশ এখনও আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার রাত ৮টার দিকে বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের শিবপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আব্দুর রহমানের ছেলে এবং কুখ্যাত মাদক সম্রাট মমতাজুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এলাকায় মাদক বিক্রি করে আসছেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে স্থানীয়রা তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পেত না। এমনকি বদরগঞ্জ থানা পুলিশও তাঁকে গ্রেপ্তারের সাহস দেখাতে পারেনি। তবে রংপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাঁকে ধরার জন্য একাধিকবার চেষ্টা চালিয়েছিল, কিন্তু সফল হয়নি।
শনিবার রাত ৮টার দিকে রংপুর ডিবি পুলিশের একটি সাদা পোশাকধারী দল শিবপুর এলাকা থেকে মমতাজুর রহমানকে মাদকসহ আটক করে এবং হাতকড়া পরায়। পরবর্তীতে পুলিশ তাঁকে গাড়িতে ওঠানোর সময় তিনি কৌশলে হাতকড়াসহ পালিয়ে যান। গভীর রাতে গ্রাম পুলিশের সহায়তায় হাতকড়াটি উদ্ধার করা হলেও আসামিকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ ও গোলাম মোস্তফা মুঠোফোনে আমার দেশকে জানান, মমতাজুর রহমান একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হওয়া সত্ত্বেও তিনি প্রকাশ্যে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এর আগে তিনি গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অল্প ভোটে পরাজিত হন। রাজনৈতিক পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর কাছ থেকে মাদক কিনে উঠতি বয়সের যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে। মাদক বিক্রি ও সেবনের বিষয়টি এলাকাবাসী বদরগঞ্জ থানাকে জানালেও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
তারা আরও জানান, শনিবার রাতে ডিবি পুলিশ মমতাজকে আটকের খবর শুনে এলাকাবাসী খুশি হয়েছিল। কিন্তু মুহূর্তেই খবর আসে যে তিনি পুলিশের হাতকড়াসহ পালিয়ে গেছেন। এলাকাবাসী দাবি জানিয়েছে, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী যে দলেরই হোক না কেন, তাঁকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
এ বিষয়ে গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামসুর রহমান বকুল গণমাধ্যমকে জানান, মমতাজুর রহমান একসময় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। তবে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিএনপিতে কোনো স্থান নেই। যারা এ ধরনের অপরাধমূলক কাজে জড়াবে, তাদের বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রংপুর ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ নবীউল হাসানের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বদরগঞ্জ থানার ওসি জাহিদ হাসান আমার দেশকে বলেন, ‘ঘটনাটি সত্য। জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে আমরা ডিবি পুলিশকে সহায়তা করার জন্য এলাকায় গিয়েছিলাম। গভীর রাতে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে হাতকড়াটি উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, আশা করি তিনি দ্রুত ধরা পড়বেন।’
এমএইচ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন