প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লাতিন আমেরিকার ডানপন্থী প্রার্থীদের জয়লাভের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে একের পর এক সরকারের 'কিংমেকার' বা ক্ষমতাধর অভিভাবক হিসেবে উপস্থাপন করে আসছিলেন। তবে ব্রাজিলের সাম্প্রতিক নির্বাচনে তার প্রভাবের কৌশল একটি বড় ধাক্কা খেয়েছে। ট্রাম্প সাবেক ফার-রাইট নেতা জেইর বলসোনারোর ছেলে ফ্ল্যাভিও বলসোনারোকে প্রকাশ্যে সমর্থন না করলেও, পুরো নির্বাচনের সময় ট্রাম্পের উপস্থিতির ছায়া স্পষ্ট ছিল।
গত বছর, ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ মিত্র জেইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচার প্রক্রিয়াকে 'রাজনৈতিক ডাইনি শিকার' (Witch-hunt) বলে উল্লেখ করেছিলেন। বলসোনারোর বিচার প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক নিপীড়ন হিসেবে দাবি করে তিনি ব্রাজিলীয় পণ্যের ওপর অস্বাভাবিক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন।
ব্রাজিলের পুনঃনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা মার্কিন প্রশাসনের এসব পদক্ষেপকে "উপনিবেশবাদী মনোভাব" হিসেবে চিহ্নিত করে এর বিরুদ্ধে নিজের দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। লুলার এই ঐতিহাসিক বিজয়ের মাধ্যমে ব্রাজিলের বহুপাক্ষিক পররাষ্ট্রনীতি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে প্রাগম্যাটিক বা ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার নীতি আরও শক্তিশালী হয়েছে। পাশাপাশি, পেন্টাগনের সঙ্গে যৌথভাবে লাতিন আমেরিকার মাদক কার্টেলবিরোধী সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার মার্কিন প্রস্তাবও লুলা প্রত্যাখ্যান করেছেন, যা ব্রাজিলীয় ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক প্রভাব বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এক দেশে গণতন্ত্রকামীদের জয় অন্যান্য দেশের গণতান্ত্রিক শক্তির মনস্তাত্ত্বিক মনোবল বৃদ্ধি করে। সার্বিয়া, ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনগুলোর প্রেক্ষাপটে ল্যাটিন আমেরিকার এই ফলাফল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ফলে, যখন বিশ্বনেতারা লুলাকে বিজয়ের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, তখন বিশ্ব রাজনীতিতে লুলার এই জয় সুদূরপ্রসারী বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন