প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিত হওয়া প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অক্সিজেনের অভাব এবং অবহেলাটির কারণে নবজাতকদের মৃত্যু ঘটেছে। এ জন্য হাসপাতালগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এই পরিস্থিতির জন্য তিনি মালিকপক্ষকে দায়ী করে বলেন, মালিকই এই কাজ করেছেন। তিনি একটি দিনও হাসপাতালটি দেখতে যাননি। মালিকের অবহেলা এবং তার একগুঁয়েমির জন্য পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তন করে তার স্ত্রীকে চিফ এক্সিকিউটিভ করা হয়েছে।
রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে গত ২৭ মে ভোরে ছয় নবজাতকের মৃত্যু ঘটে। সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী, হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে অবহেলার অভিযোগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা একদিন পর রুজু করা হয়।
আদ-দ্বীন হাসপাতাল ঘটনার প্রসঙ্গে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সমালোচনার জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আজকে অনেক সংসদ সদস্য আদ্-দ্বীন হাসপাতাল নিয়ে কথা বলেছেন। তারা বলছেন, ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় তারা ডায়ালাইসিস করায়, এটি সত্য।
এরপর তিনি বলেন, “মাথাব্যথার কারণে কি মাথা কেটে ফেলা যায়? না, কাটা যায় না। তবে যারা মাথা কাটে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে না কি? অস্বীকার করবেন? পারবেন না। তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।
ইউনাইটেড হাসপাতাল ও বার্ন ইউনিটে আগুনের ঘটনার সঙ্গে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ঘটনার তুলনা সম্পর্কেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ সময়কালে ইউনাইটেড হাসপাতালে আগুন লেগে ছয়জন মারা গিয়েছিল, তখন কিন্তু ইউনাইটেডের লাইসেন্স সরকার বন্ধ করেনি, এটি তিনি উল্লেখ করেন। বার্ন ইউনিটের আগুনের ঘটনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমি তাদের সঙ্গে একমত।
তিনি বললেন, ইউনাইটেড এবং বার্ন ইউনিটের ঘটনা ছিল একটি দুর্ঘটনা, বিদ্যুতের কারণে। কিন্তু আদ্-দ্বীনে যে ঘটনাটি ঘটেছে... শিশুরা যখন বাঁচার জন্য ছটফট করছিল, তখন অক্সিজেন ছিল না। ছয়টি শিশু হাত-পা বের করে কাঁদছিল সাহায্যের জন্য; সেই হাইপারক্যাপনিয়ায়, এসি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, ঘরে জানালা ছিল না, কাচ বন্ধ ছিল, অক্সিজেন ছিল না। ১৬-১৭ জন মানুষ মায়েরা কাঁদছিল, ছোটাছুটি করছিল; একজন ডাক্তারও আসেননি। সেই বাচ্চাগুলি ছটফট করে কার্বন ডাই-অক্সাইডের জন্য মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে।”
আদ-দ্বীন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মালিক ঘটনাস্থলে পর্যন্ত যাননি। কিন্তু ঘটনার পরের দিন আমি গিয়ে উপস্থিত হয়েছি। আমি দুইজন ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা একমত হয়েছেন যে, এটি অবহেলার কারণ এবং অক্সিজেনের অভাবে বাচ্চাগুলি মারা গেছে।
এরপর সরকার এ পরিস্থিতিতে নিশ্চুপ থাকতে পারে না মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা কি বসে থাকব, মাননীয় স্পিকার? আমরা সকল হাসপাতালকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে চাই। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার আগে দেশের ১৮ কোটি মানুষ।
মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনের মূল্য সরকারের কাছে দেখতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যে বাচ্চাগুলি মারা গেল, তাদের জন্য কিছু টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছে; সে টাকাও পুরো দেয়নি। তারা আমার কাছে এসেছে।
বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে সাখাওয়াত বলেন, সরকার মাত্র লাইসেন্স স্থগিত করেছে, হাসপাতাল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়নি। কেন আপনারা প্রতিটি বিষয়কে নিজেদের দলীয় আদর্শের সঙ্গে একীভূত করেন? দলীয় আদর্শ দিয়ে দেশের বিরোধিতা করা যায় না, যা করেছিলেন ৭১ সালে।”
নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি আমার জাতির জন্য মরতে প্রস্তুত। আমি প্রধানমন্ত্রীর নিয়োজিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আমি আমার মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য কাজ করতে প্রস্তুত। আমার বাচ্চাগুলো বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে, সেটি হতে দিতে পারি না।”
সাখাওয়াত বলেন, “যেখানে হাসপাতালের অনুমতি নিয়ে, সেখানে ছয় তলার মধ্যে একটি বেকারি কারখানা স্থাপন করেছে। গন্ধে ঢোকা যায় না। এমন বেকারি ও স্তূপ, প্লাস্টিকের বর্জ্য, একটি অগ্নিকাণ্ড ঘটলে রোগী, অভিভাবক, অ্যাটেনডেন্ট কেউই নিরাপদ থাকবে না।”
বিরোধী দলের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “তবুও আপনারা বলবেন, তারা ঠিক, আমরা ঠিক না? মাথা কাটতে বলিনি, আমি মাত্র লাইসেন্স স্থগিত করেছি। সরকার দেখবে। কিন্তু এটি নিয়ে আপনারা দলীয়করণ করছেন।
চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাজেট আলোচনা সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবায় মোট ব্যয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ রোগীদের নিজেদের পকেট থেকে বহন করতে হয়। তিনি জানান, থাইল্যান্ডে এই হার মাত্র ১০ শতাংশ এবং মালদ্বীপে প্রায় ১৮ শতাংশ।
এম এ মুহিত বলেন, আমাদের বিরোধী দল মাঝেমধ্যেই সংস্কারের কথা বলেন, জুলাই সনদের কথা বলেন। কিন্তু তারা শুধুমাত্র সেই সংস্কারের কথা বলেন, যা তাদের ক্ষমতার ভাগ দেবে। তারা স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার নিয়ে আজ পর্যন্ত একদিনও কথা বলেননি। একটি স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন হয়েছিল। তারা অনেক চিন্তাভাবনা করে অনেক সুপারিশ দিয়েছে। আমি খুশি হতাম যদি আমাদের বিরোধী দল সেই স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে এখানে আলোচনা করতেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই বাজেটের লক্ষ্য হলো ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা এবং এমন একটি সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে আর্থিক অবস্থান নির্বিশেষে সবাই বিনামূল্যে ও সহজেই চিকিৎসাসেবা পাবেন।
তিনি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, স্বাস্থ্যসেবা বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্বাস্থ্য খাতে ক্রয় প্রক্রিয়ায় আরো বেশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। এম এ মুহিত বলেন, ‘আমরা এমন একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কাজ করব, যেখানে শহর ও গ্রামের মানুষ একই মানের স্বাস্থ্যসেবা পাবে। আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভিত্তি হবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা।’
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতের বাজেট এখন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সুতরাং সরকার চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধে অধিক গুরুত্ব দেবে। উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আমরা একটি কার্যকর রেফারেল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন