প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২০ আগস্ট, ২০২৬ : রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি।
তিনি মন্তব্য করেন, বিগত ১৭ বছর ধরে মানুষ ভোট দেওয়ার বিষয়টি ভুলে গেছে। ভোট দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার ধারণাটিও মানুষের মনে থেকে হারিয়ে গিয়েছিল। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অবাধ ভোটদান, ফলাফল মেনে নেওয়া এবং বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর মধ্যে পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে সেই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি আবারও ফিরে আসতে শুরু করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু উপস্থিত ছিলেন।
চিফ হুইপ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি ও জোটের প্রার্থী মির্জা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়েছেন। বিরোধী দলের প্রার্থী মো. অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। মোট ছয়জন সদস্য ভোট দিতে পারেননি অথবা ভোটদানে বিরত ছিলেন।
চিফ হুইপ আরও বলেন, জনগণকে আশ্বস্ত করতে হবে যে দেশে সবসময় একটি স্মুথ ট্রানজিশন থাকবে এবং সেই বিশ্বাস মানুষের মনে তৈরি করতে হবে। একইসঙ্গে সবাইকে নিয়ে পথ চলার মাধ্যমে একটি ইনক্লুসিভ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি মন্তব্য করেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা ভোট দেওয়ার পর একে অপরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং পরাজিত প্রার্থী ড. অলি আহমদ বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই ধরনের রাজনৈতিক সৌহার্দ্য হারিয়ে যেতে বসেছিল, তবে এখন দেখা যাচ্ছে যে সেই সংস্কৃতি আবার ফিরে আসতে শুরু করেছে।
গণতন্ত্রকে সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু করার আহ্বান জানিয়ে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। গণতন্ত্র ছাড়া ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কাঙ্ক্ষিত পথ তৈরি করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্র নির্মাণে সবার সহযোগিতা চাই। সরকার ও বিরোধী দল যৌথভাবে সংসদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজও যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও দেশের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে চিফ হুইপ সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের কলম দিয়ে যেন এ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। আপনাদের কলমের মাধ্যমে উন্নয়ন অব্যাহত থাকুক। আপনাদের কলম দিয়ে যদি দেশের অগ্রগতি সাধিত হয়, তাহলে আমরা সার্থক হব।’
তিনি মন্তব্য করেন, গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সঠিক দিকনির্দেশনা তৈরি করা সম্ভব হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন, আজই নির্বাচনের গেজেট প্রকাশিত হবে এবং আগামীকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি শপথ গ্রহণ করবেন। এ সময় তিনি সংসদের পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ৭০ অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদে গণতন্ত্র চর্চা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে-এমন আলোচনা রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার, নির্বাচন কমিশন, ভোটার তালিকা, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ, নির্বাচন ও সংসদ সদস্যদের শপথ-সবকিছুই বর্তমান সংবিধানের অধীনেই হয়েছে। তাই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদও বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর অংশ।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী নির্বাচনে ৭০ অনুচ্ছেদের সীমাবদ্ধতা না রেখে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকার ও বিরোধী দল সম্মিলিতভাবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
চিফ হুইপ বলেন, ‘আগামী নির্বাচন যাতে ফ্রি, ফেয়ার ও ক্রেডিবল হয় এবং ৭০ অনুচ্ছেদ না থাকে, সে কার্যক্রম সরকার ও বিরোধী দল সবাই মিলে ইনশাআল্লাহ করবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন