প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের ৭/৯ পোল্ডারের চাকলা খেয়াঘাটের উত্তর পার্শ্বে কপোতাক্ষ নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রক ওয়াপদা ভেড়ীবাঁধ কেটে পাইপ বসিয়ে লোনা পানি ওঠানোর ফলে ফসল নষ্টের প্রতিকার দাবীতে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার (২১ আগস্ট) বেলা ১১ টায় ওয়াপদা বেড়ী বাঁধের উপর এই মানববন্ধনের আয়োজন করে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
মানববন্ধন চলাকালীন বক্তব্য রাখেন মোঃ আবুল কালাম ঢালী, নুরমান সরদার, আশিকুল আলম, আমিরুল গাজী, ইমান আলী গাজী ও ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ সানা। বক্তাগণ বলেন, প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলা তেলিখালী গ্রামটি আশাশুনি উপজেলার সর্ব দক্ষিণে কপোতাক্ষ নদ ভাঙ্গনের প্রবণ এলাকায় অবস্থিত। বিগত সিডর, আইলা ও আম্পানের মতো প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে কপোতাক্ষ নদ ভাঙ্গনের ফলে প্লাবিত হয়ে জোয়ার-ভাটায় ২/৩টি খালের সৃষ্টি হয়। সরকারি ভাবে ২ বছর পর ওয়াপদা বাঁধ সংস্কার ও সৃষ্ট খাল বাঁধবন্ধি করা হয়। সরকারি ওয়াপদার বাঁধের মধ্যে লবণ পানির ঘের বন্ধ রাখার নীতিমালা ঘোষণা করা হয়েছে।
বক্তাগণ বলেন, সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে সুভদ্রাকাটি গ্রামের সাবেক মেম্বার আসলাম হোসেন গাজী দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ওয়াপদা বাঁধের মধ্যে অবৈধভাবে লবণ পানি ঢুকিয়ে মৎস্য ঘের করে আসছেন। পাশের ২৫০/৩০০ বিঘা জমিতে প্রতি বছর দুটি ধানের ফসল চাষ হয়ে থাকে। এখানে কোনো লবণ পানির ব্যবহার না থাকলেও সকলের মতামত উপেক্ষা করে অবৈধভাবে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ওয়াপদা বেড়ী বাঁধ কেটে পাইপ বসিয়ে তার দখলীয় ৩০/৩৫ বিঘা জমিতে লোনা পানি উঠানোর কাজ চলছে। কোন প্রকার আউটড্রেন না থাকায় লবন পানিতে শতশত বিঘা জমির উৎপাদিত সোনালী ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সময়ে বহু ক্ষেতের আমন ধান লবণাক্ততায় হলদে-লালসে হয়ে মরতে বসেছে। বক্তাগণ আক্ষেপ করে বলেন, গত ৫ আগস্ট সকালে আসলাম হোসেন ও তার ভাই এরশাদ আলী গাজী সহযোগী আরও ১০/১২ জনকে নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ওয়াপদার ভেঁড়িবাধ কেটে পাইপ বসায়। সংবাদ পেয়ে ১নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ আব্দুর রউফ সাহেব ঘটনাস্থলে গিয়ে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে ওয়াপদা রাস্তা কাটা ও পাইপ বসানোর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে তারা ইউপি সদস্যের গায়ে ধাক্কাধাক্কি ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেয়। এই ঘটনাকে রঙ মাখিয়ে উল্টো মেম্বারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকার সচেতন মহল এই ষড়যন্ত্রের নিন্দা জানিয়েছে এবং প্রতিকার কামনা করছেন। ইউপি চেয়ারম্যান আবু দাউদ ঢালী জানতে পেরে তাৎক্ষণিক উর্ধ্বতন মহলকে অবহিত করেন। এলাকাবাসী ইউনিয়নের ইউপি সদস্যবৃন্দ ও চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর নিয়ে এমপি হাফেজ রবিউল বাশারের সুপারিশসহ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীতে ইউএনও, ওয়াপদা কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে গণ পিটিশন করেছেন বলে বক্তাগণ জানান।
তারা আরও জানান, উক্ত আসলাম বেড়ী বাঁধের ৮/১০ হাত চওড়া করে মাটি কেটে ১০ হাত গভীর করে মাটি কাটার কাজ করছেন এবং পাইপ বসাচ্ছেন। একইভাবে এনজিও উত্তরণ কর্তৃক ওয়াপদার বাইরে বসবাসকারী ১৬০ ঘর অধিবাসীদের রক্ষার্থে যে বিশাল প্রোটেকশন বাঁধ ও বনায়ন করা হয়েছে, সেই বাঁধ কেটেও পাইপ বসিয়ে লোনা পানি ঢোকানো হচ্ছে। ফলে চাকলা তেলিখালী মৌজার প্রান্তিক কৃষকদের মাথায় হাত উঠেছে। ওয়াপদা কেটে পানি ঢোকানোর ফলে বাঁধের কিছু অংশ অবশ্যই বসে গেছে। পাইপ বসানোর কারণে পুনরায় যদি এলাকায় লবণ পানিতে প্লাবিত হয় তা হবে উদ্বেগজনক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন