প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গত তিন দিনে লেবাননের জিবুল্লাহর সাথে লড়াইয়ে অন্তত ৩ জন ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন, এ সম্পর্কে দেশটির কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে। নিহতদের মধ্যে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রয়েছেন।
ইসলাইলি আর্মি রেডিওর বরাতে আল জাজিরার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী বৃহস্পতিবার থেকে দেশের দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর হামলায় ছয় ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন।
ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে যে, নিহতদের মধ্যে একটি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত আছেন, এবং গত তিন দিনের মধ্যে আরও ২০ জনেরও বেশি সেনা আহত হয়েছ।
এদিকে, ইসরাইলি পত্রিকা হারেৎজ অনুযায়ী, গত ২ মার্চ শুরু হওয়া এই নতুন দফার লড়াইয়ে লেবাননে এখন পর্যন্ত ৩৬ জন ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছে।
লেবাননে ইসরাইলের প্রায় প্রতিদিনক্ষণের হামলা এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইসরাইলে হামলা চালায়। এই হামলার জবাবে ইসরাইল স্থল অভিযান শুরু করে। ২৬ মার্চ, ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানান, ইসরাইল লিটানি নদী পর্যন্ত দক্ষিণ লেবানন দখল করার চিন্তা করছে, যা দেশটির মোট ভূখণ্ডের প্রায় এক-দশমাংশ।
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পর, গত ৮ এপ্রিল ইসরাইলি বাহিনী মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে লেবাননের ১০০টিরও বেশি স্থানে একযোগে হামলা চালায়। এই হামলায় ৩৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন।
১৬ এপ্রিল ইসরাইল ও লেবানন এক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও দক্ষিণ লেবাননে লড়াই অব্যাহত থাকে। এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য উভয় পক্ষ একে অপরকে দায়ী করে।
গত ৭ জুন ইসরাইলি বাহিনী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে বোমা হামলা চালালে, তার প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
সবশেষে, গত ১৯ জুন মার্কিন এবং ইরানি প্রেসিডেন্টরা একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির মাধ্যমে লেবাননসহ সকল ফ্রন্টে যুদ্ধ শেষের ঘোষণা দেওয়া হলেও, দক্ষিণ লেবাননে এখনও লড়াই চলছে।
বিশ্লেষকরা মনের কে কিছু বলছেন যে, ইসরাইলের কাছে যুদ্ধবিরতির অর্থ হলো এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, যেখানে তাদের সেনাদের ওপর কোনো হামলা হবে না কিন্তু তারা জমি দখল করতে থাকবে। গাজায় ঠিক একইভাবে ঘটছে। লেবানন এবং এমনকি সিরিয়াতেও একইভাবে ঘটছে, যেখানে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর ইসরায়েল দক্ষিণ সিরিয়ার একটি বিশাল এলাকা দখল করে নিয়েছে।
তথাকথিত এই 'নিরাপত্তা অঞ্চল' তৈরির নীতি প্রধানত গাজা থেকেই শুরু হয়েছিল এবং তার সাথে অনেক মিল রয়েছে।
গাজায় ইসরায়েল যে বিষয়গুলোকে স্বাভাবিক বাব ধরতে চেয়েছিল, সেগুলো এখন তারা লেবাননে স্থায়ী রূপ দিতে চায়। যেমন, সুপরিকল্পিতভভাবে একের পর এক গ্রাম ধ্বংস করা, জমি দখল করা এবং এমন কিছু এলাকা তৈরি করা যা কেবল ভবনহীন নয়, বরং সম্পূর্ণ জনমানবহীন। বিশেষ করে শিয়া প্রধান গ্রামগুলোকে তারা হিজবুল্লাহর ঘাঁটির সমতুল্য মনে করে এবং সেগুলো পুরোপুরি ফাঁকা করতে চায়।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ইসরাইলি নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগ হচ্ছে যে, যদি তারা লেবানের এই দখলকৃত অঞ্চল ছেড়ে দেয়, তবে সিরিয়াতেও তাদের একই ব্যবস্থা নিতে হবে। আদর্শগত কারণে, ইসরাইল এই ছাড় দিতে একেবারেই প্রস্তুত নয়। তাছাড়া বর্তমান ইসরাইলি সরকারের মূল ভিত্তি হলো ডানপন্থীরা, যারা এই পিছু হটা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন