প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। তাঁরা ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বেতন বৃদ্ধি ও বকেয়া পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন। গতকাল বুধবার সকাল থেকে শ্রমিকরা সড়কে জড়ো হতে শুরু করেন। সকাল ১১টার দিকে তাঁরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর দুপুর দেড়টার দিকে আন্দোলনকারীরা সড়ক ছেড়ে দেন।
শ্রমিকদের এই অবরোধের ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, বিমানবন্দর সড়ক, বিআরটি লেন এবং উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরের সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। অফিসগামী যাত্রী, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। দীর্ঘ সময় বাস আটকে থাকায় অনেক যাত্রীকে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হতে দেখা যায়।
শ্রমিকরা জানান, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে তাঁরা কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। দাবি আদায় না হওয়ায় বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা একত্র হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। গতকালের কর্মসূচি শেষ হলেও আজ বৃহস্পতিবার আবারও রাস্তায় নামার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিক মারুফা আক্তার বলেন, “সব জিনিসের দাম বেশি। যা বেতন পাই, তা দিয়ে আর চলছে না। হয় জিনিসপত্রের দাম কমাতে হবে, নইলে আমাদের বেতন বাড়াতে হবে।” শহিদুল নামের এক শ্রমিক বলেন, “চাকরি করেও যদি ঠিকঠাক দিন না চলে, তাহলে চাকরি দিয়ে কী করমু? তাই রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছি। কাল আবার নামব।”
উত্তরা ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) রুবেল হক কালের কণ্ঠকে জানান, সকালে কয়েক শ শ্রমিক বিমানবন্দর থেকে জসীমউদ্দীন পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করেছিলেন। পুলিশ বারবার অনুরোধ করার পরও তাঁরা সড়ক ছাড়ছিলেন না। এক পর্যায়ে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রীরা প্রতিবাদ জানান। শ্রমিকদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করে ধাপে ধাপে সড়ক খালি করা হয়। দুপুর দেড়টার দিকে শ্রমিকরা সব সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এর আগে গত সোমবার উত্তরার আজমপুর এলাকায় ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে পোশাক শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেছিলেন। সেদিন দক্ষিণখানের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শত শত শ্রমিকের বিক্ষোভে মহাসড়কের এক পাশে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
পুলিশ জানায়, গতকালের বিক্ষোভের শেষ দিকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদ্যঃসাবেক সদস্যসচিব হাজি মোস্তফা জামান নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদ্যঃসাবেক আহ্বায়ক সদস্য আলাউদ্দিন সরকার টিপুসহ স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে তাঁরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই সড়ক ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শ্রমিকরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন