প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বগুড়ার আদমদীঘি থানায় কর্মরত এক পুলিশ কনস্টেবলের ১৭ বছর বয়সী মেয়ে নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। মেয়ের বাবা দাবি করেছেন, তার নাবালিকা মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে এবং তিনি মামলা করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন। এছাড়া, তিনি অভিযোগ করেছেন যে, মেয়েকে উদ্ধার করার জন্য ওসি ঘুষ দাবি করেছেন।
কিন্তু মেয়েটি ফেসবুকে লাইভে এসে তার প্রেমিকের সঙ্গে দাবি করেছেন, অপহরণের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনি জানিয়েছেন যে, ৪ বছরের প্রেমের সম্পর্কের ভিত্তিতে নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করে সংসার করছেন।
নিখোঁজ কিশোরীর নাম তসনিয়া রানা তামান্না (১৭)। তার বাবা মো. রানা মাসুদ কনস্টেবল হিসেবে আদমদীঘি থানায় কর্মরত এবং প্রায় ২২ বছর ধরে পুলিশ বাহিনীতে আছেন।
তথ্য sources অনুযায়ী, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে প্রথম দফায় নিখোঁজ হন তামান্না। ওই ঘটনায় তার বাবা জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার সোনাপুর গ্রামের শহিদ হোসেনসহ (১৮) কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার পর পুলিশ তামান্নাকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করলে তিনি জানিয়ে দেন, শহিদের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে। মেয়েটির বয়স ১৭ বছর হওয়ায় এবং ডাক্তারি পরীক্ষার ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তা গত ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
আদালতে বাবার জিম্মায় ফেরার পরের দিন, অর্থাৎ গত ১ মে সকাল ৭টার দিকে তামান্না আবারও শহিদ হোসেনের সঙ্গে পালিয়ে যান। এই ঘটনায় কনস্টেবল রানা মাসুদ আদালতে পুনরায় অভিযোগ দায়ের করেন এবং ৭ মে আদমদীঘি থানায় নতুন করে একটি মামলা রুজু হয়। এই মামলাটি বর্তমানে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে।
এদিকে, দ্বিতীয়বার নিখোঁজের পর তামান্না ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে বলেন, "আমার নামে অপহরণের যে মামলা দেওয়া হয়েছে, তা পুরোপুরি মিথ্যা, ভুল ও বানোয়াট। বাবা একজন পুলিশ কনস্টেবলের দায়িত্বে থেকে নিজের মেয়ের নামে মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছেন। আমার হাজবেন্ডের সঙ্গে ৪ বছরের সম্পর্ক চলছে। বাবা এবং ফ্যামিলির সদস্যেরা এটি মেনে নিচ্ছে না, তাই মিথ্যা প্রচার করছেন।"
তবে, কনস্টেবল রানা মাসুদের অভিযোগ ভিন্ন। তিনি জানিয়েছেন, গত ১ মে মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি থানায় মামলা করতে গেলে আদমদীঘি থানার ওসি তার কাছে টাকা (ঘুষ) দাবি করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, এ অবস্থায় তিনি ডিআইজিকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানালে ডিআইজির নির্দেশে থানায় প্রথমে একটি সাধারণ ডায়েরি এবং পরে মামলা নেয়া হয়।
দীর্ঘ এক মাসেও তার মেয়ে উদ্ধার না হওয়ায় তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, "আমি একজন পুলিশ সদস্য হয়েও বিচার পাচ্ছি না। দেশের সাধারণ মানুষ তাহলে কিভাবে বিচার পাবে?" তিনি মেয়ের উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য স্ত্রীসহ ঢাকা প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান করছেন।
রানা মাসুদের আরও অভিযোগ, জয়পুরহাটের একটি থানার ওসি তাকে ডেকে নিয়ে মেয়েকে ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে কোনো মামলা না করার শর্তে স্বাক্ষর দিতে বলেছিলেন, কিন্তু তিনি এতে রাজি হননি।
অপরদিকে, আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, "ঘুষ দাবির বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। পুলিশের মেয়ে মানে সে আমাদেরও মেয়ে। যথাসময়ে তার মামলা নেওয়া হয়েছিল। এরপরও তিনি মিথ্যাচার করে বেড়াচ্ছেন এবং বর্তমানে থানায় অনুপস্থিত রয়েছেন।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন