প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফল শুধু সুস্বাদুই নয়, বরং সুস্বাস্থ্যের অন্যতম প্রধান উৎসও।
কিছু ফল সারা বছর পাওয়া যায়, আবার কিছু ফল নির্দিষ্ট মৌসুমে বাজারে আসে। দেশের ভিতরে ও বাইরের নানা ধরনের ফলে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন পুষ্টিগুণ। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি পূরণে ফলের ভূমিকা অপরিসীম। জেনে নিন কোন ফলে কী ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে এবং সেগুলো আমাদের কীভাবে উপকার করে।
আমড়া: আমড়ায় প্রচুর ভিটামিন বি ও সি, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ক্যারোটিন, পেকটিন ও খাদ্যআঁশ রয়েছে। এটি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে, রক্তস্বল্পতা কমাতে সাহায্য করে এবং হজমশক্তি উন্নত করে। আমড়ার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বক, চুল ও নখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক।
আমলকী: ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ আমলকী রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সক্ষম। এটি সর্দি-কাশি প্রতিরোধ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ এবং ত্বক ও চুলের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাতাবিলেবু: বাতাবিলেবুর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও অন্যান্য খনিজ উপাদান। এটি পেশির দুর্বলতা দূর করতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
পেয়ারা: পেয়ারা ভিটামিন এ, বি, সি ও কে, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম এবং খাদ্যআঁশের উৎকৃষ্ট উৎস। এটি চোখের স্বাস্থ্য রক্ষা করে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করার পাশাপাশি হজমশক্তি উন্নত করে।
জামরুল: জামরুলে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান যকৃতের সুরক্ষায় সহায়তা করে। একই সঙ্গে এটি রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
লটকন: লটকনে ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খনিজ রয়েছে। এটি হাড় ও দাঁতকে মজবুত রাখে, চোখের জন্য উপকারী এবং কম ক্যালোরিযুক্ত হওয়ায় ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
কামরাঙা: কামরাঙা ভিটামিন এ, সি এবং অন্যান্য খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ। এটি কোলেস্টেরল কমাতে ও হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক। শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়।
বেল: বেলে ভিটামিন এ, সি ও খাদ্যআঁশ রয়েছে। এটি হজমশক্তি বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং পেটের সমস্যায় যেমন ডায়রিয়া ও আমাশয়ে উপকারী। গরমে বেলের শরবত শরীরকে সতেজ রাখে।
গাব: গাবে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, খাদ্যআঁশ ও অ্যান্টিক্সিডেন্ট রয়েছে। এটি দুর্বলতা দূর করতে, রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে এবং হজমে সহায়তা করে।
কলা: কলা পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬ ও ভিটামিন সি-এর সমৃদ্ধ উৎস। এটি হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং দ্রুত শক্তি প্রদান করে। কলার খাদ্যআঁশ হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে।
পেঁপে: পেঁপেতে ভিটামিন এ, সি ও ই, সঙ্গে পর্যাপ্ত খাদ্যআঁশ রয়েছে। এটি হজমশক্তি বাড়ায়, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা উন্নত করে এবং ত্বক ও চোখের জন্য উপকারী। ওজন নিয়ন্ত্রণেও পেঁপে কার্যকর।
নারিকেল: নারিকেলের পানি ইলেকট্রোলাইটে সমৃদ্ধ, যা শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে। নারিকেলের শাঁসে স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন, খাদ্যআঁশ, ভিটামিন বি ও সি এবং ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। এটি হাড়, দাঁত ও ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
লেবু: লেবু ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের অন্যতম উৎস। এটি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়, হজমে সহায়তা করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। নিয়মিত লেবু খেলে শরীর সতেজ থাকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন