প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল অবকাঠামো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইডটকো বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে এ লক্ষ্যে ফ্লোসোলার সলিউশনস লিমিটেডের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ফ্লোসোলারের সঙ্গে যৌথ এই উদ্যোগের মাধ্যমে টেলিকম টাওয়ার পরিচালনায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, সম্ভাব্য সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে উৎপাদিত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে ইডটকোর টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর কার্যক্রমে সরবরাহের সুযোগ যাচাই করবে উভয় প্রতিষ্ঠান। এ লক্ষ্যে ফ্লোসোলার সম্ভাব্য বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের স্থান নির্বাচন, গ্রিড সংযোগ এবং প্রকল্প উন্নয়নের দায়িত্ব পালন করবে। অন্যদিকে, ইডটকো উপযুক্ত স্থান চিহ্নিত করা এবং বিদ্যুতের চাহিদা মূল্যায়নে সহযোগিতা করবে।
এই অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য হলো ইডটকোর টেলিকম টাওয়ার পরিচালনায় নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি করা। এর ফলে প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আনা, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।
ইডটকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আল-বাতুনী মোহাম্মাদ সাঈদ আহমেদ মন্তব্য করেন, "ডিজিটাল অবকাঠামোর পরিসর প্রতিনিয়ত বাড়ছে। একই সঙ্গে এসব অবকাঠামোয় বিদ্যুৎ সরবরাহের পদ্ধতি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।" তিনি আরও জানান, "বৃহৎ পরিসরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাইয়ের মাধ্যমে এই উদ্যোগ কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রচেষ্টায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।"
ফ্লোসোলার সলিউশনস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা আজিম কাসেম খান বলেন, "টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সচল থাকে। ফলে এ খাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি উল্লেখ করেন, "এই সমঝোতা স্মারক দুই প্রতিষ্ঠানকে ধাপে ধাপে নেটওয়ার্কে পরিচ্ছন্ন ও দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সরবরাহের একটি পরিকল্পিত কাঠামো তৈরিতে সহায়তা করবে।"
প্রস্তাবিত মডেল অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদন অবকাঠামোতে ইডটকোকে কোনো প্রারম্ভিক মূলধন বিনিয়োগ করতে হবে না। ফ্লোসোলার সম্ভাব্য প্রকল্পগুলোর উন্নয়ন ও অর্থায়নের দায়িত্ব পালন করবে। এর ফলে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং চূড়ান্ত বাণিজ্যিক ও নিয়ন্ত্রক শর্তাবলি পূরণ সাপেক্ষে ইডটকো দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সংগ্রহের সুযোগ পাবে।
প্রাথমিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, প্রতি ১০০ মেগাওয়াট পিক উৎপাদনক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বছরে প্রায় ১৩০ গিগাওয়াট-ঘণ্টা নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এতে বছরে প্রায় ৮০ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ এড়ানো যাবে। তবে প্রকৃত উৎপাদন ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের পরিমাণ নির্ভর করবে চূড়ান্ত প্রকল্পের ধরন, প্রযোজ্য গ্রিড নিঃসরণ সূচক এবং গ্রিডের প্রচলিত বিদ্যুতের কতটুকু প্রতিস্থাপিত হচ্ছে তার ওপর।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন