প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অবিশ্বাস্য, রোমাঞ্চকর এবং দীর্ঘ ৮৮ বছরের এক আক্ষেপ ঘুচানোর গল্প লিখল ব্রাজিল। বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের নকআউট পর্বে জাপানের বিপক্ষে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়লেও সবশেষে ২-১ গোলের মহাকাব্যিক জয় তুলে নিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। এটি ১৯৩৮ সালের পর প্রথমবার, যখন বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বিরতির সময় পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ল সেলেসাওরা। সেবার সেটি চেকোস্লোভাকিয়ার বিরুদ্ধে ২-১ ব্যবধানে জয় লাভ করেছিল, আর দীর্ঘ আট দশক পর যেন সেই ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি ঘটল। এই জয়ের মাধ্যমে লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিরা টানা ১১ বার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করল।
ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তবে সব নাটকীয়তার অবসান ঘটে একদম শেষ মুহূর্তে, ম্যাচের ৯৫ মিনিটে। গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির একটি চমৎকার গোলে ব্রাজিলের জয় নিশ্চিত হয়। এই গোলটি কেবল দলটিকে জেতায়নি, বরং বিশ্বকাপের ইতিহাসে নির্ধারিত সময়ের নকআউট পর্বে ব্রাজিল বা যেকোনো দলের জন্যই সবচেয়ে দেরিতে করা ম্যাচজয়ী গোলের নতুন রেকর্ড গড়েছে। এর আগে ২০০২ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ব্রাজিল জিতেছিল, তবে সেবার বিরতির আগেই সমতায় ফিরেছিল তারা। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে এটি ষোড়শ বারের মতো পিছিয়ে পড়েও জয়ের স্বাদ পেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, যা জার্মানির সাথে যৌথভাবে একটি বিশ্বরেকর্ড।
এই ঐতিহাসিক ম্যাচে ব্রাজিলের অভিজ্ঞ এবং তরুণদের মধ্যে এক চমৎকার সমন্বয় দেখা গেছে। ১৯৬৬ সালের পর থেকে হিসাব করলে, ২৯ বছর ২৪৫ দিনের গড় বয়সের এই একাদশটি ছিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ব্রাজিলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বয়স্ক দল। অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরো ৩৪ বছর ১২৬ দিন বয়সে গোল করে ব্রাজিলের ইতিহাসে বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতার কীর্তি গড়েন। তবে রেকর্ড বুকে কাসেমিরোর আরেকটি ছায়াও রয়েছে; ২০১৮ সালে অভিষেকের পর বিশ্বকাপে এটি ছিল তার পঞ্চম কার্ড, যা এই সময়ে যেকোনো ফুটবলারের জন্য সর্বোচ্চ।
অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণরাও আলো ছড়িয়েছেন। মাত্র ১৯ বছর ৩৩০ দিন বয়সে মাঠে নেমে পেলের মতো কিংবদন্তিদের পাশে ব্রাজিলের হয়ে নকআউট পর্বে খেলা তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হয়ে উঠেছেন তরুণ তুর্কি হায়ান। মাঝমাঠে ব্রুনো গিমারেসও ছিলেন দুর্দান্ত, চলতি আসরে এটি ছিল তার চতুর্থ অ্যাসিস্ট, যা ১৯৭০ বিশ্বকাপে পেলের করা ৬ অ্যাসিস্টের রেকর্ডের দিকেই ইঙ্গিত করছে। পুরো ম্যাচজুড়ে জাপানের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রেখে ব্রাজিল তাদের আক্রমণভাগে ২১০টি সফল পাস দিয়েছে, যা বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে দলটির সর্বোচ্চ পাসের নতুন রেকর্ড। সব মিলিয়ে মাঠের আক্রমণাত্মক ফুটবল আর রেকর্ডের পাতায় এক নতুন অধ্যায় লিখে মাঠ ছেড়েছে আনচেলত্তির ব্রাজিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন