প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দুই বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর অবশেষে খুলতে যাচ্ছে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ীতে অবস্থিত সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর। এখন শুধুমাত্র জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। এর আগে একটি পরীক্ষামূলক চালু হওয়ার পর এখানে ১০ ট্রিপ জাহাজ চালানো হয়েছিল। এই বন্দরের মাধ্যমে পাথর এবং কয়লা আমদানি করা হবে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ১১টা নিয়ে নৌবন্দরটি পুর্নাঙ্গরূপে চালু করার অভিপ্রায়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাটি সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগের কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশীদ। সভায় ভার্চুয়াল বক্তব্য রাখেন বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাগণ ও ব্যবসায়ীরা।
সভায় নৌবন্দর চালুর বিষয়ে বিভিন্ন আলোচনা হয়। বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা তাদের মতামত প্রদান করেন। সবার মাঝে নৌবন্দর চালুর পক্ষে সমন্নয়ের একটি পরিবেশ ছিল। নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফজলে এলাহী বলেন, "নৌপথে দস্যুতা ও বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে আমরা কাজ করি। সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর চালু হলে সেখানে আমরা একটি থানা স্থাপন করবো। বর্তমানে আমাদের ওই উপজেলায় একটি ফাঁড়ি আছে যা থানায় রূপান্তরিত করা হবে।"
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অঞ্চল মাদক চোরাচালানের রুট হিসেবে পরিচিত। তারা আরও জানান, "আমরা এর আগে এখানকার নদী বন্দর নিয়ে আমাদের হেডকোয়ার্টারে জানিয়েছি। আমরা এই বন্দরের বিষয়ে ইতিবাচক আছি। এনবিআরের পক্ষ থেকে বলা হয়, এখানে বন্দর তৈরিতে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, এর মধ্যে মাদকও বিষয়টি রয়েছে। এর আগে সেখানে কোনো স্থাপনা ছিল না, এখন সবকিছু তৈরি হয়েছে। আমরা এখান থেকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেব।"
পাথর আমদানিকারক আমিনুল ইসলাম বলেন, "সড়কের তুলনায় নদী পথে পণ্য আনা-নেওয়া খরচ কয়েকগুণ কম। অন্য দেশ থেকে জাহাজে পাথর আনতে খরচ অনেক বেশি হয়। ভারতের মায়া বন্দর থেকে পাথর নিয়ে আসলে খরচ অর্ধেকের নিচে নেমে আসবে। এর ফলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে এবং ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। এই রুটে ৮০ লিটার তেলে একটি জাহাজ যাওয়া-আসা করতে পারবে।"
রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হাসেন আলী বলেন, সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর চালু হলে রাজশাহী অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা যথেষ্ট উপকৃত হবেন। এই বন্দরের ফলে সোনামসজিদ বন্দরের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের জন্য সুফল বয়ে আসবে। সেখান থেকে আমদানি ছাড়া রফতানি করাও সম্ভব হবে। আমাদের বেশ কিছু পণ্য আমরা রফতানি করবো। এতে আমাদের কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে।
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান বলেন, "আমি সোমবার বন্দরটি পরিদর্শন করেছি। সেখানে সড়ক প্রশস্তের কাজ চলছে। এছাড়া বন্দরের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই আছে। ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য রাখার জন্য সড়কের পাশে বিভিন্ন জমি ভাড়া নিচ্ছেন।"
বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন জানান, "বন্দরটি চালু করতে প্রয়োজনীয় সমস্ত কিছু সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে নতুন করে স্থাপনাও তৈরি হয়েছে। বন্দরের জন্য জমি ২৫ বছরের জন্য ইজারা নেওয়া হয়েছে। পদ্মার কিছু স্থানে ড্রেজিংও করা হয়েছে যাতে করে জাহাজ চলাচল করতে পারে। এখন এনবিআর অনুমোদন দিলে এই বন্দর পুর্নাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হবে।" রাজশাহী বিভাগের কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশীদ বলেন, "যদি বন্দরটি চালু হয়, এখানে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে। এটি অপরাধও কমিয়ে আনবে। আমরা বন্দর চালুর বিষয়ে ইতিবাচক। খুব শীঘ্রই এই বন্দর চালু হবে। এর ফলে সবাই উপকৃত হবেন। এখন কেবল এনবিআরের অনুমোদনের অপেক্ষা।" এর আগে গত শুক্রবার (১৬ জুন) সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের সদস্য (পরিকল্পনা ও পরিচালনা) ও যুগ্ম সচিব মো. সাজেদুর রহমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন। ছয় দশক আগে রাজশাহীর সুলতানগঞ্জ থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের ধূলিয়ান নৌপথে বাণিজ্য চলছিল। কিন্তু ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধসহ অভ্যন্তরীণ নানা কারণে নৌপথ ও নদীবন্দর বন্ধ হয়ে যায়। সেই নৌপথে আবারও বাণিজ্য চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে দীর্ঘ ৫৯ বছর পর ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। চালুর পর মাত্র ১০ দিন কার্যক্রম চলে। এরপর থেকে এই পোর্ট বন্ধ হয়ে যায়। পাঁচটি নৌযানে আমদানি-রফতানি হয় পাথর ও গার্মেন্টস ঝুট।
২০২৫ সালের ১ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের নৌপরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর পরিদর্শনকালে অবকাঠামো উন্নয়ন করে দ্রুত এটি চালুর নির্দেশনা দেন। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জের সঙ্গে ভারতের মুর্শিদাবাদের মায়া নৌবন্দরের দূরত্ব মাত্র ১৮ কিমি। এই নৌপথ চালু হলে ভারত থেকে সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল, পাথর, মার্বেল, খনিজ বালু ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী বাংলাদেশে আসবে। বাংলাদেশ থেকে বস্ত্র, মাছ, পাট ও পাটজাত পণ্য ছাড়াও বিভিন্ন কৃষিপণ্য ভারতে রফতানি করা যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন