প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের নির্বাচন কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের নির্বাচনি প্রতীক জোড়াফুলকে আপাতত কোনো পক্ষের জন্য স্বীকৃতি দেয়নি। এর ফলে, আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপ-নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জির শিবির এবং ঋতব্রত ব্যানার্জি শিবিরকে জোড়াফুল প্রতীক ছাড়াই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। পাশাপাশি, আপাতত কোনো পক্ষই সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নাম ব্যবহার করতে পারবে না।
১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর থেকে জোড়াফুল প্রতীকটি দলের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে আছে। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, মমতা ব্যানার্জি নিজেই এই প্রতীকের নকশা তৈরি করেছিলেন। তবে, সম্প্রতি এই প্রতীকের নকশা নিয়ে ভিন্ন দাবিও সামনে এসেছে। ফলে, এই প্রতীক নিয়ে বিতর্ক এখন শুধুমাত্র নির্বাচনি চিহ্নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং দলের ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের প্রশ্নও এতে জড়িয়ে পড়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন শিবির এবং ঋতব্রত ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী- উভয়ই নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল হিসাবে দাবি করছে। দলীয় নাম, প্রতীক, সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ এবং সম্পদের মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষ নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছে। কমিশন উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পাশাপাশি বিভিন্ন নথিও চেয়েছে।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের সময়সীমা সামনে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। দুই শিবিরই নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে এবং ঋতব্রত শিবিরের প্রার্থী মহম্মদ এহতেশামুল হক। রেজিনগরে মমতা শিবিরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী এবং ঋতব্রত শিবিরের প্রার্থী শেখ সফিউজ্জামান। এখন প্রশ্ন হলো, প্রতীক ছাড়া দুই শিবির কোন নামে এবং কোন নির্বাচনি চিহ্নে ভোটের মাঠে নামবে।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, উভয় পক্ষকেই সংরক্ষিত প্রতীকের তালিকা থেকে আলাদা প্রতীক বেছে নিতে হবে। নামের ক্ষেত্রেও পৃথক পরিচয় ব্যবহার করতে হবে। তবে, এই ব্যবস্থা স্থায়ী নয়। কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর দলীয় নাম ও প্রতীকের মালিকানা নিয়ে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। ফলে, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন এখন শুধুমাত্র দুটি বিধানসভা আসনের লড়াই নয়, বরং তৃণমূলের দুই শিবিরের সাংগঠনিক শক্তি, জনসমর্থন এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের পরীক্ষাও হতে চলেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন