প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিদেশি পর্যটক এবং অভিবাসীদের জন্য সূর্যোদয়ের দেশ জাপান ধীর গতিতে বড় দুঃসংবাদ দিয়েছেন। আগামীকাল ১ জুলাই থেকে দেশটিতে প্রবেশ করতে বিদেশি নাগরিকদের জন্য আগের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি ভিসা ফি দিতে হবে। ১৯৭৮ সালের পর অর্থাৎ প্রায় ৪৮ বছর পর এই প্রথম ভিসা ফি বাড়ানোর একটি নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত টোকিও নিয়েছে।
জাপান সরকারের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, সিঙ্গেল-এন্ট্রি অর্থাৎ একবার প্রবেশের ভিসার আবেদন ফি ৩ হাজার জাপানি ইয়েন থেকে বাড়িয়ে একলাফে ১৫ হাজার ইয়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে, মাল্টিপল-এন্ট্রি বা একাধিকবার প্রবেশের ভিসার খরচ ৬ হাজার ইয়েন থেকে বেড়ে ৩০ হাজার ইয়েন করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে জাপানে বিদেশি পর্যটকদের জন্য রেকর্ড উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এই বিপুল চাপের কারণে দেশটির সামগ্রিক অবকাঠামো এবং জনসেবার ওপর ব্যাপক চাপ আসছে। জাপান সরকার জানিয়েছেন, বর্তমান বিশ্ববাজারের মূল্যবৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক খরচ বৃদ্ধি এবং জাপানি মুদ্রা ইয়েনের রেকর্ড অবমূল্যায়নের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই ভিসা ফি বাড়ানোর এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ভিসা ফি বাড়ানোর পাশাপাশি সব ভ্রমণকারীর জন্য ডিপার্চার ট্যাক্স বা দেশ ত্যাগ করাও ১ হাজার ইয়েন থেকে বেড়ে ৩ হাজার ইয়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া স্থায়ীভাবে বসবাসের (পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি) আবেদন ফি ১০ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ইয়েন এবং রেসিডেন্সি স্ট্যাটাস পরিবর্তনের ফি ১ লাখ ইয়েন করার আইন পাস করেছে দেশটির উচ্চকক্ষ।
অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আকস্মিক এই ফি বৃদ্ধির প্রধান উদ্দেশ্য অতিরিক্ত পর্যটকদের ভিড় সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বরং বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী সামলানোর প্রশাসনিক ও পরিচালন খরচের একটি বড় অংশ বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা। তবে, ফি পাঁচ গুণ বেড়ানোর পরও নান্দনিক দেশ হিসেবে জাপানের যে চিরন্তন আবেদন রয়েছে, সেই কারণে পর্যটক বা দক্ষ অভিবাসীদের আসার সংখ্যায় খুব বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন দেশটির নীতি-নির্ধারকেরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন