প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষার স্বার্থে ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবি জানিয়েছে। এই উদ্দেশ্যে বুধবার (৭ অক্টোবর) আদালতে আবেদন করেছেন রাজ্যটির অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমেইয়ার। খবরটি প্রকাশ করেছে সামা টিভি অনলাইনের।
পাসকো কাউন্টির একটি আদালতে দাখিল করা আবেদনে তিনি বিচারকের কাছে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য অনুরোধ করেছেন। এতে মেটার মালিকানাধীন ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুককে ফ্লোরিডায় ১৪ বছরের কম বয়সি ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করে প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সি কিশোরদের জন্য মেটার সব অ্যাপের দৈনিক ব্যবহারসীমা সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা নির্ধারণ, ‘অটোপ্লে’ ও ‘ইনফিনিট স্ক্রল’-এর মতো আসক্তি বাড়াতে পারে এমন ফিচার বন্ধ করা এবং তাদের কাছে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন না করার প্রস্তাবও রয়েছে। মামলার বিচার চলাকালীন এসব ব্যবস্থা অবিলম্বে কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়েছে ফ্লোরিডার পক্ষ থেকে।
তবে মেটা এ উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে। এক বিবৃতিতে কোম্পানিটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রায় সব অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর পর ফ্লোরিডার উচিত ইউটিউব ও টিকটকের মতো অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, ‘অভিভাবকদের ক্ষমতায়ন এবং কিশোরদের সুরক্ষায় ইউটিউব ও টিকটকের ওপর চাপ প্রয়োগে করদাতাদের অর্থ ব্যয় করা উচিত। এর পরিবর্তে বহু বছর ধরে চলা মামলায় ভিত্তিহীন একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের আবেদন করায় আমরা দুঃখিত।’
ফ্লোরিডার অভিযোগ, মেটা জেনেশুনে তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো এমনভাবে তৈরি করেছে যাতে তরুণ ব্যবহারকারীরা আসক্ত হয়ে পড়ে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি তাদের সেবার নিরাপত্তা নিয়ে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করেছে বলেও দাবি করেছে রাজ্যটি।
দেশজুড়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের করা অনুরূপ মামলাগুলোর মধ্যে ফ্লোরিডার মামলাও একটি। গত আগস্টে মেটা ওয়াশিংটন ডিসিসহ আরও ৪৮টি অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে। ওই সমঝোতার আওতায় প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ ১৮ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ এবং কিশোর ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় কিছু পরিবর্তন আনতে সম্মত হয়েছে।
যদিও সমঝোতায় রাজি হলেও মেটা কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ স্বীকার করেনি। কোম্পানিটির দাবি, তারা সবসময়ই কিশোরদের নিরাপদ রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।
তবে রিপাবলিকান নেতা জেমস উথমেইয়ার ওই সমঝোতায় যোগ না দিয়ে মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে ফ্লোরিডা বলেছে, সমঝোতার শাস্তি ‘হাতে চড় মারার মতো সামান্য’, যা ব্যবসা পরিচালনার স্বাভাবিক খরচ হিসেবেই দেখা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ ঠেকাতে কার্যকর হবে না।
ফ্লোরিডার প্রস্তাবিত বিধিনিষেধগুলো মেটার সমঝোতায় সম্মত হওয়া শর্তগুলোর চেয়েও কঠোর। কারণ সময়সীমা শেষ হলে কিশোরদের বার্তা আদান-প্রদানের সুবিধাও বন্ধ হয়ে যাবে এবং তাদের কোনো বিজ্ঞাপন দেখানো যাবে না।
তবে ফ্লোরিডার দাবি, অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে হওয়া সমঝোতায় মেটা যেসব পরিবর্তন আনতে সম্মত হয়েছে, সেটিই প্রমাণ করে যে আরও কঠোর নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন