প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে কারাগার থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়নি। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তিনি কারাগার থেকেই ভার্চুয়ালি মামলার শুনানিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তার বিরুদ্ধে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই শুনানিতে জিয়াউল আহসান ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে কারাগার থেকে অংশ নেবেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে আনা-নেওয়ার সময় নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে বলে তার ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এ কারণে আজ তাকে কারাগারে রেখেই ভার্চুয়ালি শুনানিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে আজ তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়নি।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছিল, জিয়াউল আহসানকে একক প্রিজন ভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে আনা-নেওয়া নিরাপদ না হলে তাকে কারাগারে রেখেই ভার্চুয়াল শুনানির ব্যবস্থা করা হবে।
সেদিন শুনানিতে জিয়াউল আহসানের আইনজীবী ও বোন নাজনীন নাহার মন্তব্য করেন, অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে আনা-নেওয়া করা হলেও গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে জিয়াউল আহসানকে একা একটি প্রিজন ভ্যানে করে আনা হচ্ছে। এতে তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নাজনীন নাহার আরও বলেন, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে একা আনা-নেওয়ার সময় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। তাই তাকে অন্য আসামিদের সঙ্গে আনা-নেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অন্য আসামিদের একা আনা না হলেও জিয়াউল আহসানকে কেন একা আনা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম জবাবে বলেন, যদি জিয়াউল আহসানের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থাকে, তবে তাকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে না এনে ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে মামলার কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, কারাগার থেকেই ভিডিওর মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে রাষ্ট্রপক্ষের এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন নাজনীন নাহার। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অন্য আসামিদের সঙ্গে জিয়াউল আহসানকে আনা হলে নিরাপত্তার সমস্যা কোথায়।
শুনানির একপর্যায়ে কাঠগড়ায় থাকা জিয়াউল আহসান নিজেও কথা বলার অনুমতি চান। ট্রাইব্যুনালের অনুমতি পেয়ে তিনি অভিযোগ করেন, তাকে একা গাড়িতে আনার উদ্দেশ্য হলো নিজেদের দ্বারা কোনো ঘটনা ঘটিয়ে পরে তার ওপর দায় চাপানো।
রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের বক্তব্য শোনার পর ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ পর্যায়ে
শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। এখন তার জেরা শুরু হওয়ার কথা।
এই মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম, হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন