প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইউক্রেনের শহর রক্ষা করার জন্য কিছু ড্রোন বিভিন্ন ভূমিকা পালন করছে। আবার কিছু ড্রোন রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা চালানোর কাজ করছে যা কয়েকশ’ কিলোমিটার দূরে। তবে, ইউক্রেনের ড্রোনগুলোর আরেকটি বিশেষ দিক হলো এগুলোর নাম। এই নামগুলো কিছু ক্ষেত্রে রসিকতা ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হয়ে উঠেছে।
শব্দের কৌতুক, তীক্ষè রসিকতা ও ক্ষোভের প্রকাশ মিলিয়ে এখন এসব নাম সত্যিকার অর্থে প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে ইউক্রেন যুদ্ধরত একটি দেশের মানুষের জীবনে এগুলো কিছুটা হলেও স্বস্তির অনুভূতি এনে দিচ্ছে।
আমরা যুক্তরাজ্যের ফার্নবরো থেকে প্রাপ্ত একটি খবরের ভিত্তিতে জানাচ্ছি, লন্ডনের দক্ষিণ-পশ্চিমে আয়োজিত ফার্নবরো এয়ার শোতে সোমবার দর্শনার্থীরা পিএস-১ সানের নতুন সংস্করণের ছবি তোলার জন্য ভিড় করেন। ‘পিসিওউন’ লেখা টি-শার্ট পরা এবং বালাক্লাভা দিয়ে মুখ ঢেকে রাখা স্কাইফলের একজন মুখপাত্র কোম্পানিটির নতুন মডেল ‘পিএস-১ সান জেট কিলার’ উপস্থাপন করেন। এই ড্রোনটিকে রাশিয়ার ব্যবহৃত জেটচালিত শাহেদ ড্রোন ভূপাতিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
এছাড়া, সম্প্রতি রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলায় ব্যবহৃত ও ফার্নবোতে প্রদর্শিত ‘লিউতি’ নামের গভীর-পাল্লার ড্রোনটির বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। ইউক্রেনীয় ভাষায় এই শব্দটির অর্থ একদিকে ‘ফেব্রুয়ারি’, ২০২২ সালের সে মাস যখন রাশিয়া পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করেছিল। অপরদিকে শব্দটির অর্থ ‘প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ।’
অন্যদিকে, আরেকটি ড্রোনের নাম ‘পালিয়ানিৎসিয়া’। এটি ইউক্রেনের ঐতিহ্যবাহী সাদা রুটির নাম। রুশ ভাষাভাষীদের জন্য শব্দটি উচ্চারণ করাও কঠিন। এই নামটি যুদ্ধের সময় ইউক্রেনীয় ও রুশদের আলাদা করতে পরীক্ষাস্বরূপ ব্যবহার করা হয়।
ইউক্রোবোরোনপ্রমের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপির সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপকালে জানিয়ে দেন, ইউক্রেনীয় ভাষায় ‘নরক’ অর্থে ব্যবহৃত ‘পেকলো’ নামটি প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নির্বাচিত করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই নামটি ‘সমগ্র ইউক্রেনের প্রতিশোধ এবং শাস্তির’ প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়ার ধ্বংসের প্রতিক্রিয়ায় এ নাম রাখা হয়েছে। এতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কার্গো বিমান এবং ইউক্রেনের মহাকাশ ও বিমান শিল্পের প্রতীক আন্তোনভ অ্যান-২২৫ ‘মরিয়া’র ধ্বংসও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রুশ আগ্রাসনের প্রথম পর্যায়ে বিমানটি ধ্বংস হয়ে যায়।
এ কর্মকর্তা তখন বলেছিলেন, ‘এটি শুধু অর্থ উপার্জনের জন্য তৈরি আরেকটি বাণিজ্যিক পণ্য নয়। এটি এমন একটি অস্ত্র, যা আমাদের রক্ষা করে। আমাদের আরও একটি দিন বাঁচার সুযোগ করে দেয়। আমাদের প্রিয়জনদের আবার দেখার সুযোগ এনে দেয়।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন