প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’- স্লোগানকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর উদ্যোগে একটি পদযাত্রা ও পথসভার আয়োজন করা হয়েছে।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজের সামনে, যেখানে কালিহাতী উপজেলা শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান বিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে এ পথসভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এদিকে, পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বইয়ে বক্তব্য দেন এবং বলেন, ‘আমরা পরিবর্তনের জন্য রক্ত দিয়েছি। একদলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে আরেক দলের লুটপাটের জন্য ছাত্র-জনতা রক্ত দেয়নি।’ সারজিস আলম তার বক্তব্যে আরও দাবি করেন, ‘অতীতে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং ভিন্নমত প্রকাশ করলেই মানুষকে গুম ও হয়রানির শিকার হতে হতো।’
তিনি এ বিষয়ে আরও মন্তব্য করে বলেন, ‘শেখ হাসিনার একটি রোগ ছিল, সকলকে খারাপ বলার এবং শেখ হাসিনাকে ভালো বলার। বিএনপির আমলে এই রোগ আমাদের হতে দেব না। বিএনপির সকলকে খারাপ এবং তারেক রহমানকে ভালো বলার এ ধরনের বিষয়ে ভাবারও সুযোগ নেই। যদি আবার কেউ একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন, তবে আওয়ামী লীগের পরিণতির কথা মনে রাখতে হবে।’
সারজিস আলম জুলাই সনদ প্রসঙ্গে অভিযোগ করেন যে বর্তমান সরকার গুমবিরোধী অধ্যাদেশ, মানবাধিকার অধ্যদেশ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করেছে। তিনি বলেন, সরকার এগুলো সংশোধন করে পুনরায় আনার কথা বলে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার চেষ্টা করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান।
আদানি ইস্যুতে, তিনি মন্তব্য করেন যে ভারতের আদানি কোম্পানিকে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বাংলাদেশ থেকে বিপুল অর্থ নিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প থেকে সরতে এবং দেশের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনের আহ্বান জানান তিনি। প্রতিটি ঘরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কেও তিনি মন্তব্য করেন, ‘ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশে আরও ‘পুশ-ইন’ করার পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে, যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য উদ্বেগজনক।’ তিনি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, সীমান্তবর্তী এলাকাকে আরো নিরাপদ করা এবং বিজিবিকে আরও শক্তিশালী করার দাবি জানান।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে সারজিস আলম বলেন, ‘বিএনপি আজ ক্ষমতাসীন একটি দল। তারা আমাদের অভ্যুত্থানের সহযোদ্ধা। তাদের ভালো কাজের প্রশংসা করব, তবে যদি তারা কোনো ভুল করে, তাহলে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।’
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রামের সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ বক্তব্য দেন। তিনি জানান, ৩২টি রাজনৈতিক দল দীর্ঘ ছয় থেকে সাত মাস আলোচনা করে জুলাই সনদটি প্রণয়ন করেছিল এবং পরবর্তীতে গণভোটে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ এর পক্ষে মত দিয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন যে, বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় এসে সেই সংস্কার প্রস্তাব এবং জুলাই সনদকে অস্বীকার করেছে।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে, তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে বিএনপি দেড় বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু, চার মাস অতিবাহিত হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। এমনকি সরকারের বাজেটেও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুস্পষ্ট কোনো রূপরেখা নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, ঘাটাইল উপজেলার সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী হায়দার, এবং ঘাটাইল উপজেলার প্রধান সমন্বয়ককারী আনিস আহমেদ।
এই সভায় এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন