প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে উঠে নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান মিমকে চাপা দিয়ে নিহতের ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার আজান আলী শরীফকে (১৭) শিশু-কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল- ৮ এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ওই কিশোরকে শিশু সংশোধনাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে। মামলায় কিশোরের পক্ষে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে। জামিন আবেদন করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। জামিন আবেদনের দিন আপসনামা দাখিল করা হবে।
এর আগে, গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে গুলশান থানাধীন বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক এলাকার ১ নম্বর সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে গিয়ে সেখানে অবস্থানরত নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান মিমকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পর গাড়িটি সড়কবাতির একটি খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে গাড়িটি দ্রুতগতিতে ফুটপাতে উঠে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসন থেকে এক কিশোর বেরিয়ে এলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে অভিযোগ ওঠে যে, তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নিহতের ভাই মোক্তাদীর বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন।
মামলায় গাড়ির চালক হিসেবে আকাশ মারককে আসামি করা হয়। পরে তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে কিশোর আজান আলী শারীফের গাড়ি চালানোর বিষয়টি সামনে আসে বলে পুলিশ জানায়। এরপর বুধবার গুলশান-১২ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে আজানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর বৃহস্পতিবার ওই শিশুকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. আরিফীন ইসলাম।
ওই আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, এই মামলার ঘটনার সাথে জড়িত শিশু আজান আলী শরীফের জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আইনের সংঘাতে জড়িত শিশুকে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন