প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফরিদপুরের সদরপুরে জমি নিয়ে বিরোধের কারণে এম এ মোস্তাফিজুর রহমান (৪৫) নামের এক স্কুলশিক্ষককে বাড়িতে ঢুকে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের জাকেরডাঙ্গী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
আহত মোস্তাফিজুর রহমানকে রাতেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসার ‘ইনজুরি নোট’ অনুযায়ী, তাঁর ডান পায়ে গুলির ক্ষত রয়েছে। এতে হাঁটুর নিচের অংশের দুটি হাড় ভেঙে গেছে। এছাড়া, ডান কাঁধের হাড়ের স্থানচ্যুতি, বুকে আঘাতের দাগ এবং ডান হাতে ফোলা ও ব্যথার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
মোস্তাফিজুর রহমান জাকেরডাঙ্গী গ্রামের সফিউদ্দীন রহমানের ছেলে। তিনি সদরপুর উপজেলার আকটেরচর ইউনিয়নের শোনপাচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, বুধবার স্কুল শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার সময় বিকেল ৫টার দিকে হেলমেট পরা ১৪-১৫ জন যুবক মোটরসাইকেলে করে তাঁদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের হাতে হকিস্টিক, রামদা, চাপাতি ও কাঠের লাঠি ছিল। একজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রও ছিল। তারা বাড়িতে ঢুকে মোস্তাফিজুরের ডান পায়ে গুলি করে। পরে হামলাকারীরা বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে চলে যান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, চরভদ্রাসন উপজেলার ব্যবসায়ী আলতাফ শেখের সঙ্গে মোস্তাফিজুরের পরিবারের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এর জেরে গত ৭ সেপ্টেম্বর আলতাফ শেখের প্রায় দুই বিঘা জমির ৩৫০টি কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠে মোস্তাফিজুরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
মোস্তাফিজুরের বোন মোহসীনা আক্তার বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধের জেরেই আমার ভাইকে গুলি করা হয়েছে। হামলাকারীরা স্কুল থেকে তাকে অনুসরণ করে বাড়িতে এসে গুলি করে।’
মোস্তাফিজুরের বাবা সফিউদ্দীন রহমান জানান, ‘পৈতৃক সম্পত্তির ২৬ শতাংশ জমি চরভদ্রাসনের আলতাফ শেখের কাছে বিক্রি করেছিলাম। কিন্তু তিনি আরো প্রায় ৪০ শতাংশ জমি দখল করে রেখেছেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরেই আমার ছেলের ওপর হামলা হয়েছে।’
তার অভিযোগ, আলতাফ শেখের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মইদ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে মোস্তাফিজুরের ডান পায়ে গুলি করেন।
তবে আব্দুল্লাহ আল মইদ (২৫) এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেখে পালাতে গিয়ে মোস্তাফিজুর পড়ে যান। তখন তাঁর পায়ে আঘাত লাগে। তাঁর পা আগেই ভাঙা ছিল।’
এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা আমার জানা নেই। এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগও করেননি।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন