প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা ইরানে সামরিক অভিযানে বেসামরিক মানুষের হত্যা ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সাথে সম্পর্কিত।
একটি স্বাধীন তদন্তকারী দলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পরমাণু চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। এই সময় মার্কিন বাহিনী চরম ‘বেপরোয়া আচরণ’ ও অবহেলা প্রদর্শন করেছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘটে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা। ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা চালিয়ে ১২০ জন শিশু এবং ২৬ জন নারী শিক্ষককে হত্যা করা হয়। বিদ্যালয়টির পাশে একটি নৌঘাঁটি থাকলেও, সেটি যে স্পষ্টতই শিশুদের স্কুল তা বোঝা যাচ্ছিল। স্কুলের দেয়ালে আঁকা ছবি ও খেলার মাঠও পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল। হামলার ধরণ ছিল অত্যন্ত নির্মম—প্রথমবার মিসাইল নিচতলায় পড়ার পর আতঙ্কিত শিশুদের নিয়ে শিক্ষকেরা দোতলার প্রার্থনা কক্ষে আশ্রয় নিলে, তখনই দ্বিতীয় মিসাইলটি সেখানে আঘাত হানে।
পেন্টাগন পরে স্বীকার করে যে, পুরনো বা ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তারা এই হামলাটি চালিয়েছিল। একই দিনে একটি ক্রীড়া কেন্দ্রে মার্কিন মিসাইল হামলায় বেশ কয়েকজন শিশুসহ বহু মানুষ প্রাণ হারায়।
জাতিসংঘের এই রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধি আনা কেলি উল্টো জাতিসংঘকেই সমালোচনা করে বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল বছরের পর বছর ধরে অকার্যকর কিছু কথা ছড়িয়ে আসছে।
তিনি আরও বলেন, মূল যুদ্ধাপরাধী হলো ইরান সরকার নিজেই এবং বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য তাদের পারমাণবিক সুবিধা বন্ধ করা জরুরি। অন্যদিকে, ইরান জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়ে এই ধরনের ‘নির্বিচার’ হামলার জন্য আন্তর্জাতিক বিচার দাবি করেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো জেনে-বুঝে স্কুলে হামলা করতে চায়নি, কিন্তু চরম অবহেলা ও আগে থেকে খোঁজখবর না নিয়ে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনের চোখে একটি বড় অপরাধ। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আদালতের সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য নয়, তাই সরাসরি কোনো শাস্তি তাদের হবে না। কিন্তু আমেরিকান রাজনীতি ও সরকারের ওপর এটি যে বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও নৈতিক চাপ তৈরি করবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন