প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলাকালীন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি সংসদের কার্যকারিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জবাবে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় কোনো কাজ সংসদ অধিবেশনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। সংসদ অধিবেশনই সর্বোচ্চ গুরুত্ব বহন করে।’
মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত রাখার জন্য স্পিকার শুরু থেকেই সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানিয়ে আসছেন। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, যখন কোনো মন্ত্রণালয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা দায়িত্বশীল representantes সংসদ কক্ষে উপস্থিত থাকেন না।
সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। সেসব বিষয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সরাসরি শোনা প্রয়োজন। বিশেষ করে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা যদি নিয়মিত উপস্থিত না থাকেন, তাহলে সংসদীয় আলোচনার কার্যকারিতা কমে যায়।
বিরোধীদলীয় নেতা সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, অধিবেশন চলাকালে কখনো কখনো কয়েকজন সদস্যকে ছোট ছোট দলে আলাদা আলোচনা করতে দেখা যায়। এতে সংসদের মর্যাদা ক্ষুন্ন হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুসরণ করতেও অন্য সদস্যদের অসুবিধা হয়।
তিনি আরো বলেন, একদিকে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে, অন্যদিকে কয়েকজন মিলিত হয়ে আলাদা বৈঠকের মতো পরিবেশ তৈরি করছেন। এটি সংসদের শৃঙ্খলা ও ডিসেন্সির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর জবাবে বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজেট অধিবেশন চলাকালীন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংসদ সদস্যরা বক্তব্য রাখেন এবং স্বাস্থ্য, আইন-শৃঙ্খলা, স্থানীয় সরকারসহ নানা খাত নিয়ে আলোচনা হয়। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের উপস্থিত থেকে বক্তব্য শোনা প্রয়োজন। আমি আবারও তাগিদ দিচ্ছি, কোনো রাষ্ট্রীয় কাজ সংসদ অধিবেশনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। সব রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের মধ্যে সংসদ অধিবেশনই সর্বোচ্চ গুরুত্ব বহন করে। মন্ত্রীদের উচিত, যথাসময়ে সংসদে উপস্থিত থাকা এবং তাদের মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংসদ সদস্যদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা। যথাসম্ভব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণেরও চেষ্টা করা উচিত।’
স্পিকার সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলার প্রসঙ্গে বলেন, তিনি মাঝে মাঝে ছোট ছোট গ্রুপে আলোচনা এবং আসন ছেড়ে অন্যত্র কথা বলতে দেখেন। এমনকি কয়েকবার ‘ফ্লোর ক্রসিং’-এর ঘটনাও তার নজরে এসেছে। সংসদের ভেতরে গ্রুপভিত্তিক আলোচনা পরিহার করুন। যতটা সম্ভব নিজ নিজ আসনে বসে কার্যক্রমে অংশ নিন এবং আলোচনাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনুন। সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। পয়েন্ট অব অর্ডার নিষ্পত্তির পর স্পিকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু করেন। প্রথমে বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আইনুল হক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন