প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বকাপের পর ভিনিসিয়ুসের চেহারায় পরিবর্তন নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। পরে সেই আলোচনা থেকে ছড়ায় তাকে বদলে দেওয়া, ক্লোন, এমনকি হত্যা ও এলিয়েন-সংক্রান্ত নানা দাবি—যেগুলোর কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ঘিরে সামাজিকমাধ্যমে কয়েক দিন ধরে নানা ধরনের দাবি ও তত্ত্ব ছড়াচ্ছে। বিশ্বকাপের পর ব্রাজিলে ছুটিতে থাকার সময় ফেসিয়াল হারমোনাইজেশন করানোর পর তার চেহারায় পরিবর্তন দেখা যায়। বিশেষ করে থুতনি ও চোয়ালের গঠনে পরিবর্তন নিয়ে ভক্তদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।
সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পুরোনো ও নতুন ছবির তুলনা থেকে প্রথমে প্রশ্ন ওঠে, ভিনিসিয়ুসকে আগের চেয়ে দেখতে আলাদা লাগছে কি না। পরে কিছু পোস্টে দাবি করা হয়, বর্তমান ভিনিসিয়ুসের জায়গায় কোনো ডাবল বা ক্লোন থাকতে পারে। এসব পোস্টে চেহারা, শরীরের গঠন, ট্যাটু এবং মাঠের পারফরম্যান্সের পার্থক্যকে কথিত প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
এরপর দাবিগুলো আরও বিস্তৃত হয়। কিছু সামাজিকমাধ্যম পোস্টে বলা হয়, বিশ্বকাপের পর ব্রাজিলে ছুটিতে থাকার সময় ভিনিসিয়ুস কোনো অপরাধের শিকার হয়েছেন এবং পরে তার জায়গায় অন্য কাউকে ব্যবহার করা হয়েছে। অন্য কিছু পোস্টে আবার তাকে কোনো কথিত ‘গোপন আচার’-এর শিকার হওয়ার দাবি করা হয়। এসব দাবির পক্ষে অবশ্য কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
পরবর্তী পর্যায়ে আরও কিছু পোস্টে সিআইএ, রথসচাইল্ড পরিবার ও কথিত বৈশ্বিক অভিজাত গোষ্ঠীর নাম যুক্ত করা হয়। আবার অন্য একটি তত্ত্বে ভিনিসিয়ুস ও নেইমারকে বিশ্বকাপের সময় এলিয়েন বা রিপটিলিয়ানদের দ্বারা অপহরণের দাবি করা হয়। আগের একটি ভাইরাল ইউএফও-সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে এই দাবিগুলোকে যুক্ত করার চেষ্টাও দেখা যায়।
ভিনিসিয়ুসের প্রেমিকা ভার্জিনিয়া ফনসেকাকেও কিছু পোস্টে এই গল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। একটি দাবিতে তাকে কথিত ‘ক্লোন ভিনিসিয়ুসের নিয়ন্ত্রক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এরও কোনো বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
‘প্রমাণ’ হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ভিনিসিয়ুসের ট্যাটু, মুখের গঠন এবং খেলার ধরন। কিছু ব্যবহারকারী দাবি করেছেন, পুরোনো ছবিতে দেখা ট্যাটু সাম্প্রতিক ছবিতে নেই। আবার কেউ কেউ বলেছেন, তার ড্রিবলিং, গতি ও ওয়ান-অন-ওয়ান দক্ষতাতেও পরিবর্তন এসেছে। চলতি মৌসুমে ১০ ম্যাচে ২ গোল ও ৩ অ্যাসিস্টের পরিসংখ্যানও এসব আলোচনায় টেনে আনা হয়েছে।
তবে চেহারার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কসমেটিক প্রক্রিয়ার তথ্য রয়েছে, আর পারফরম্যান্সে ওঠানামা বা ছবিতে ট্যাটু দৃশ্যমান না হওয়া কোনোভাবেই পরিচয় বদলে যাওয়ার প্রমাণ নয়। তাই ভিনিসিয়ুসকে ঘিরে ছড়ানো ক্লোন, প্রতিস্থাপন, হত্যা, গোপন সংগঠন বা এলিয়েন-সংক্রান্ত দাবিগুলোকে এখন পর্যন্ত সামাজিকমাধ্যমের গুজব ও অনুমান হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
একটি কসমেটিক পরিবর্তন নিয়ে শুরু হওয়া আলোচনা এভাবেই কয়েক দিনের মধ্যে নানা স্তরের গুজব ও মিমে পরিণত হয়েছে। সামাজিকমাধ্যমে দাবিগুলো যতই ছড়াক, সেগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন