প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও পেন্টাগনে সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আমেরিকার 'সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ'-এর ভয়াবহ মানবীয় ও আর্থিক ক্ষতির চিত্র। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এবং ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ‘কস্ট অব ওয়ার’ প্রজেক্টের গবেষণা অনুযায়ী, গত আড়াই দশকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন একাধিক যুদ্ধ ও সামরিক অভিযানে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ৪৫ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটেছে।
প্রতিবেদনটি জানাচ্ছে, ২০০১ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এই দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযানের ফলে আফগানিস্তান, ইরাক, পাকিস্তান, ইয়েমেন, সোমালিয়া, লিবিয়া ও সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন।
গবেষণার প্রধান তথ্যসমূহ: প্রাণহানি: প্রত্যক্ষ সামরিক হামলায় প্রায় ৯ লাখ ৪০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া যুদ্ধজনিত মহামারি, খাদ্যাভাব ও ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে পরোক্ষভাবে মারা গেছেন আরও ৩৬ থেকে ৩৮ লাখ মানুষ।
আফগানিস্তান: ২০০১ থেকে শুরু হওয়া দুই দশকের যুদ্ধে সরাসরি প্রাণ গেছে অন্তত ১ লাখ ৭৬ হাজার মানুষের। যুদ্ধপরবর্তী সময়ে খাদ্যাভাব বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২ শতাংশে।
ইরাক: ২০০৩ সালে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের অজুহাতে চালানো অভিযানে ৩ লাখ ১৫ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারান।
ড্রোন ও বিমান হামলা: পাকিস্তান, ইয়েমেন, সোমালিয়াসহ বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার বিমান ও ড্রোন হামলায় হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
আর্থিক ক্ষতি: বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি খরচ হয়েছে ৫.৮ ট্রিলিয়ন ডলার। এছাড়া যুদ্ধাহত সৈনিকদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে ভবিষ্যৎ খরচ ধরা হয়েছে ২.২ ট্রিলিয়ন ডলার—যার মোট পরিমাণ ৮ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে শান্তি ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুরু হওয়া এই 'অনন্ত যুদ্ধ' (Forever Wars) মানবজাতির ইতিহাসে অন্যতম বড় সংকট ও চরম মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন