প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা, নির্যাতনের বিচার এবং প্রবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছে প্রবাসী বাংলাদেশি অধিকার সংস্থা ‘প্রবাস’। সংগঠনটি একই সঙ্গে বিদেশে বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশিদের আইনি ও কূটনৈতিক সহায়তা জোরদার এবং নির্যাতনের শিকার নারী কর্মীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানায়।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন আয়োজন করে ‘প্রবাস’। পরে সংগঠনের প্রতিনিধিরা স্মারকলিপিটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেন।
মানববন্ধনে সংগঠনের আহ্বায়ক, লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা মনন মন্তব্য করেন, প্রবাসে যারা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছেন, তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
সংগঠনের সদস্য সচিব ও অ্যাক্টিভিস্ট আনন্দ কুটুম জানান, সৌদি আরবে পাশবিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ৯ মাসে দেশে ফিরেছেন ৯৮০ জন নারী কর্মী। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় দেশে ফিরেছেন। তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্যাতনের শিকার এসব নারীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তাদের সন্তানদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক ফোরামে আলোচনা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন।
চিকিৎসক ও সংগঠনটির সমন্বয়ক তৃণা ইসলাম বলেন, বিদেশে বাংলাদেশিদের সুরক্ষায় দূতাবাসগুলো যথাযথ ভূমিকা পালন করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
সাংবাদিক ও সংগঠনের গণমাধ্যম সমন্বয়ক হাসনাত কাদীর বলেন, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থে দেশের অর্থনীতি সচল থাকে। তিনি রাষ্ট্রকে দেশের ভেতরে ও বিদেশে থাকা সব নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন।
মানববন্ধনে অন্যান্য বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিদেশে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক বিপদে পড়লে তাকে প্রয়োজনীয় আইনি ও কনস্যুলার সহায়তা দিতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণেরও প্রয়োজন রয়েছে।
প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা, আইনি সহায়তা, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত ‘প্রবাস’ জানিয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে।
‘বিদেশে শ্রমিকের নিরাপত্তা চাই’ ও ‘নির্যাতন ও মৃত্যুদণ্ডের জবাব চাই’ স্লোগানে আয়োজিত মানববন্ধনের সহ-আয়োজক ছিল গণতন্ত্র ও জবাবদিহিবিষয়ক দক্ষিণ এশিয়াভিত্তিক নেটওয়ার্ক ‘সাউথ এশিয়ান অ্যাকাউন্টেবিলিটি নেটওয়ার্ক ফর ডেমোক্রেসি (স্যান্ড)’। এতে গবেষণা সহযোগী হিসেবে ছিল চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘দ্য স্কলারো’।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন