প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহীতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পুনরায় লেখার সুযোগ দেওয়ার ঘটনাটি শিক্ষা বোর্ডের তদন্তে সত্যতা পেয়েছে। তদন্তের ফলাফলে দেখা গেছে, ওই পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষকের বাসায় ডেকে এনে দুটি প্রশ্নের উত্তর নতুন করে লেখানো হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই উত্তরগুলোর মূল্যায়ন করে নম্বরও প্রদান করা হয়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রউফ, তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে তারা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) শিক্ষা বোর্ডের সচিবের কাছে সিলগালা অবস্থায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিটি। বিষয়টি নিয়ে দৈনিক যুগান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে রাজশাহীর বেলপুকুর এলাকার আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানকে পরীক্ষকের বাসায় ডেকে নিয়ে পুনরায় উত্তর লেখানোর অভিযোগ উঠে আসে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের উত্তরপত্রে নিজের মোবাইল নম্বর লিখে এসেছিল মেহেদী। ওই নম্বরে ফোন করে ১৪ আগস্ট তাকে নিজের বাসায় ডেকে নেন রাজশাহীর হাজী জমির উদ্দীন সাফিনা মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজির প্রভাষক ও পরীক্ষক সেকেন্দার আলী। অভিযোগ রয়েছে, টাকার বিনিময়ে তাকে আবার উত্তর লেখার সুযোগ দেওয়া হয়।
এ ঘটনার পর শিক্ষা বোর্ড পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরীক্ষক সেকেন্দার আলী উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে বোর্ডে জমা দেওয়ার পর সেগুলো জব্দ করা হয়। তদন্ত কমিটি উত্তরপত্র পরীক্ষা করে দেখতে পায়, মেহেদী হাসানকে দ্বিতীয় দফায় লেখার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এ সময় নম্বরেও কাটাকাটি করা হয়।
তদন্ত কমিটির প্রধান রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের উপপরিচালক (হিসাব ও নিরীক্ষা) ইব্রাহিম হোসেন বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে কিছু সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুর রউফ জানান, উত্তরপত্রে ২ ও ৪ নম্বর প্রশ্নের যে উত্তর মেহেদী হাসান প্রথমে লিখেছিল, তাতে সে কোনো নম্বর পায়নি। পরে তাকে পরীক্ষকের বাসায় ডেকে নিয়ে ওই দুটি প্রশ্নের উত্তর নতুন করে লেখানো হয় এবং সেগুলোর জন্য নম্বরও দেওয়া হয়। উত্তরপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি সাক্ষীদের বক্তব্যেও অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, পরীক্ষক সেকেন্দার আলীকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মেহেদীর পরীক্ষার ফল প্রকাশ না করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের শৃঙ্খলা কমিটিতে বিষয়টি আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরী বলেন, তদন্তে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তবে তদন্ত কমিটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় অধিকতর তদন্তের সুপারিশ করেছে। এ জন্য বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানো হবে। পাশাপাশি পরীক্ষক সেকেন্দার আলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তদন্ত প্রতিবেদন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছেও পাঠানো হবে।
প্রসঙ্গত, গত ৮ আগস্ট এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। আগামী নভেম্বর মাসে ফল প্রকাশের কথা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন