প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যাচেলরস কোয়ার্টারে বসবাস করছেন। তিনি আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, জরুরি প্রয়োজনে একজন বিবাহিত শিক্ষককে সর্বোচ্চ ছয় মাস ব্যাচেলরস কোয়ার্টারে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়।
তবে, অধ্যাপক রাশিদুল আলম প্রায় দুই বছর ধরে সেখানে অবস্থান করছেন। যদিও তার জন্য প্রভোস্ট বাংলোতে বরাদ্দ রয়েছে, তিনি সেখানে উঠেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মঙ্গলবার জানান, প্রশাসনের অনেক সদস্য নির্ধারিত বাংলোয় না থেকে বাইরে অবস্থান করছেন, যা নিয়মের পরিপন্থী ও অনুচিত।
এস্টেট শাখার সূত্রে জানা যায়, অধ্যাপক রাশিদুল আলম ব্যাচেলরস কোয়ার্টারের ১৩ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন। তিনি ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, প্রভোস্টদের জন্য আবাসিক বাংলো বরাদ্দের ব্যবস্থা রয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এক মাস পর অক্টোবরে প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ পান।
প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে তিনি ব্যাচেলরস কোয়ার্টারে ওঠেন বলে জানা গেছে। তবে গত ৩০ জুলাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রক্টরের পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার পরও তিনি ওই কোয়ার্টারেই অবস্থান করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাচেলরস কোয়ার্টারের একটি ফ্ল্যাটে দুজন শিক্ষক থাকলে প্রত্যেকের মূল বেতনের ৯ শতাংশ হারে বাসাভাড়া কর্তন করা হয়। যদি কোনো শিক্ষক একা একটি ফ্ল্যাটে থাকেন, তবে মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বাসাভাড়া কর্তনের বিধান রয়েছে। বিবাহিত শিক্ষকদের জন্য নির্ধারিত আবাসিক কোয়ার্টারে বাসাভাড়া বাবদ মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কর্তনের বিধান রয়েছে।
অধ্যাপক রাশিদুল আলমের বেতন স্কেল অনুযায়ী, ব্যাচেলরস কোয়ার্টারে তার মাসিক বাসাভাড়া ৬ হাজার ৮৮৪ টাকা। অন্যদিকে, প্রভোস্ট বাংলোয় থাকলে ৫০ শতাংশ হারে বাসাভাড়া বাবদ ৩৮ হাজার ২৪৫ টাকা কাটা হয়। ফলে, ব্যাচেলরস কোয়ার্টারের ভাড়া দেওয়ার কারণে প্রতি মাসে প্রায় ৩১ হাজার ৩৬১ টাকা কম কর্তন হচ্ছে। ভাড়া কম হওয়ার কারণে অধ্যাপক রাশিদুল আলম ব্যাচেলরস কোয়ার্টারেই অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এস্টেট অফিস সূত্রে জানা গেছে, জরুরি প্রয়োজনে একজন বিবাহিত শিক্ষক সর্বোচ্চ ছয় মাস ব্যাচেলরস কোয়ার্টারে থাকতে পারেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের দাবি, অধ্যাপক রাশিদুল আলম ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ওই কোয়ার্টারে অবস্থান করছেন। এ কারণে তিনি নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে বসবাস করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, প্রভোস্ট বাংলোয় বসবাসের উপযোগী করার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজের আবেদনও অধ্যাপক রাশিদুল আলম করেননি বলে জানা গেছে।
প্রভোস্ট হিসেবে বাংলো বরাদ্দ থাকার পরও ব্যাচেলরস কোয়ার্টারে অবস্থানের কারণ জানতে অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ করে কথা বলার জন্য এক দিন পর যোগাযোগ করতে বলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রক্টর অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত কোয়ার্টারে থাকাই সঠিক। এভাবে নির্ধারিত বাসা খালি থাকলে সরকারের রাজস্বের ক্ষতি হচ্ছে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন