প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) পাকিস্তানে রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে পাকিস্তানে এই সফর করছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এ সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে।
সফরের শুরুতেই প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। এ ছাড়াও, তিনি সিনেটের চেয়ারম্যান ইউসুফ রাজা গিলানি, জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক এবং উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে পাকিস্তানে এটি তাঁর দ্বিতীয় সফর। এ সফরে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয় এবং গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত নিরাপত্তা, জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক সংযোগ উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়াও, গত ১৮ জুন স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতার অগ্রগতি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুও আলোচনায় স্থান পাবে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত ওই আলোচনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও অংশ নেন।
১৮ জুনের সমঝোতার আওতায় সংঘাত নিরসন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত রাখা এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর নিয়ে আলোচনার একটি কাঠামো তৈরিতে তেহরান ও ওয়াশিংটন নীতিগতভাবে একমত হয়েছে বলে জানা গেছে।
সুইজারল্যান্ডের বৈঠককে পরবর্তী পর্যায়ের কারিগরি আলোচনার ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। মধ্যস্থতাকারীদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে যেকোনো ভুল বোঝাবুঝি বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে একটি সার্বক্ষণিক যোগাযোগব্যবস্থা চালুর বিষয়ে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে।
এ ছাড়া, লেবাননের চলমান সংঘাত প্রশমনে একটি বিশেষ সমন্বয় কাঠামো গঠনের বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন।
পাকিস্তান সফরে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বৈঠকগুলো দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন