প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাপানের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে সমুদ্রের নিচে হদিস মিলেছে সোনার। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জাপান 'সোনার খনি'র নীচে অবস্থান করছে। তবে পরিবেশগত কারণে সেখানে খননকাজ চালানো উচিত কি না, এই নিয়ে বিশ্বজুড়ে একটি বড় বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সায়েন্টিফিক রিপোর্টস সাময়িকীতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমুদ্রের নিচে থাকা আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে বিশেষ ধরনের চিমনি রয়েছে। এই চিমনি কেবল সোনার ক্ষুদ্র কণা উৎপাদন করছে না, বরং সেখানে তৈরি হচ্ছে অদৃশ্য সোনা, যা সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্র দ্বারা দেখা সম্ভব নয়। এই সোনা মূলত সমুদ্রের তলদেশের বিভিন্ন খনিজ উপাদানের মধ্যে লুকিয়ে আছে। এই বিশেষ খাদের সোনার ঘনত্ব বিশ্বে এখনও পর্যন্ত পাওয়া সোনার চেয়ে সর্বোচ্চ।
আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের একটি দল সতর্ক করেছেন যে, সমুদ্রের তলদেশের এই সক্রিয় ভেন্ট বা মুখগুলোকে বাণিজ্যিক খননকাজের আগ্রাসন থেকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।
২০১৫ সালের মধ্যে জাপানের নিজস্ব অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে এই হিগাসি-আওগাশিমা ভেন্ট আবিষ্কৃত হয়েছিল। এই হাইড্রোথার্মাল ফিল্ড টোকিও থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এবং এখানে পাথরের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয় জাপানের শিজুওকা বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয় এবং টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের দ্বারা। অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রযুক্তি সেকেন্ডারি-আয়ন মাস স্পেকট্রোমেট্রি ব্যবহার করে তারা সেখানে অত্যন্ত উচ্চমানের সোনার সন্ধান পান।
এই অদৃশ্য ন্যানো কণা পাইরাইট নামক একটি সালফাইড খনিজের মধ্যে লুকানো রয়েছে। সমুদ্রের তলদেশ থেকে নির্গত গরম ও ধাতুসমৃদ্ধ তরল থেকে এই পাইরাইট তৈরি হয়।
পাইরাইট চকচকে লোহা এবং সালফারের মিশ্রণ হওয়াতে একে অনেক সময় ফুলস গোল্ড বলা হয়। এবারের আবিষ্কার প্রমাণ করেছে যে, সেই বোকার সোনার ভেতরেই আসলে আসল সোনা লুকিয়ে আছে।
গবেষকেরা জানান, সেখানে সোনা ন্যানো কণা হিসেবে আটকে আছে। তাছাড়া খনিজের রাসায়নিক গঠনের ভেতরে একক পরমাণু হিসেবেও সোনা রয়েছে।
সমুদ্রের অন্যান্য সোনার খনির তুলনায় এই এলাকা তুলনামূলকভাবে কম গভীর। সহজে যাতায়াতযোগ্য এবং উৎপাদনের খরচ অনেক বেশি হওয়ার কারণে ভবিষ্যতের খনি ব্যবসায়ীদের জন্য এই এলাকা অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। বিশ্বজুড়ে দীর্ঘ আলোচনা ও বিতর্ক চললেও আজ পর্যন্ত সমুদ্রের তলদেশে কোনো বাণিজ্যিক সোনার খনি চালু করা সম্ভব হয়নি। বিজ্ঞানীরা সমুদ্রের তলদেশের উপাদান থেকে সস্তায় ও কার্যকর উপায়ে এই অদৃশ্য সোনা বের করার পন্থা খুঁজছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন