প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের নতুন প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। বাস-উয়েলে প্রদেশে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর আফ্রিকা সিডিসি জানায়, দেশে মোট ছয়টি প্রদেশে ইবোলা ছড়িয়ে পড়েছে।
আফ্রিকা সিডিসির মহাপরিচালক জ্যাঁ কাসেয়া বৃহস্পতিবার জানান, ওই ব্যক্তি ইবোলা আক্রান্ত ওত-উয়েলে প্রদেশের ইসিরো থেকে বুটায় এসে মৃত্যুবরণ করেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বুধবার জানায়, কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে সংস্থাটির আশঙ্কা, এটি ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এক দশকেরও বেশি আগে পশ্চিম আফ্রিকায় ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবে ১১ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বিরল বুন্দিবুগিও ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই।
সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোতে ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ হাজার ১০০ জনেরও বেশি মারা গেছেন।
২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবের তুলনায় এবারের প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় তিন গুণ দ্রুত বেড়ে গেছে।
এবারের প্রাদুর্ভাব এমন এক কঠিন অবস্থায় ছড়িয়ে পড়ছে, যখন কিছু স্বাস্থ্যকর্মী বেতন না পাওয়ার কারণে ধর্মঘট করছেন। পাশাপাশি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হুমকি, দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতার শিকার মানুষের ক্ষোভ এবং ইবোলা নিয়ে নানা ধরনের গুজব ও অপপ্রচার রয়েছে।
কঙ্গোর ২৬টি প্রদেশের মধ্যে ছয়টি প্রদেশে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ইবোলা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত ইতুরি প্রদেশের নিজি চিকিৎসা কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মীরা বৃহস্পতিবার ধর্মঘটে যান।
তাদের অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় চিকিৎসাকেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
এই প্রাদুর্ভাবের প্রকৃত ব্যাপ্তি এখনো স্পষ্ট নয়। ১৫ মে কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দাবি করে, ভাইরাসের জিনগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রাদুর্ভাবটি আরও কয়েক মাস আগে, ফেব্রুয়ারিতেই শুরু হয়েছিল।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করে, নতুন আক্রান্তদের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই আগে থেকে পর্যবেক্ষণে থাকা সংস্পর্শের তালিকায় ছিলেন না। ফলে রোগটি উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। আফ্রিকার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক ড. মোহাম্মদ ইয়াকুব জানান, "আমরা ভাইরাসটিকে তাড়া করছি, কিন্তু ভাইরাসটি আমাদের থেকে এগিয়ে আছে।"
ইবোলা একটি বিরল কিন্তু অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির বমি, রক্তের মতো শারীরিক তরলের সংস্পর্শে এ রোগ ছড়াতে পারে।
দূষিত বিছানাপত্র, পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রীর মাধ্যমেও সংক্রমণ হতে পারে। এ রোগ গুরুতর এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী। কঙ্গোর আক্রান্ত পাঁচটি প্রদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ইতুরি প্রদেশে গত মাসে বুন্দিবুগিও ইবোলার সম্ভাব্য দুটি চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন