প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার দাবির পক্ষে বিশ্বে ‘পরিবর্তনের হাওয়া’ বইছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। তিনি এ সময় যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনার বিরোধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ অবস্থান পুনর্বিবেচনা করার প্রস্তুতির ইঙ্গিতও উল্লেখ করেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
দক্ষিণ আটলান্টিকের এই দ্বীপপুঞ্জটি বর্তমানে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া টেলিভিশন ভাষণে মিলেই বলেন, ‘বিশ্বে পরিবর্তনের এমন হাওয়া বইছে, যা আমাদের দাবির পক্ষে অনুকূল।’ ১৯৮২ সালে দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
আর্জেন্টিনায় দ্বীপগুলো ‘লাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত। দ্বীপগুলোর মালিকানা দেশটির মানুষের কাছে অত্যন্ত আবেগপূর্ণ একটি বিষয়। এ নিয়ে ব্রিটেনের সঙ্গে মাঝে মাঝেই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
চলতি বছরের শুরুতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা ‘ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার’ লেখা একটি ব্যানার তুলে ধরেছিলেন।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দ্বীপপুঞ্জের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা আবারও শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিরোধে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। পাশাপাশি দ্বীপপুঞ্জের কাছে একটি ব্রিটিশ-ইসরাইলি তেল প্রকল্প নিয়েও আর্জেন্টিনায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
মন্ত্রিসভার এক ভাষণে মিলেই বলেন, আর্জেন্টিনা ‘চুপচাপ বসে থাকবে না’। তিনি ফকল্যান্ডসের তেল প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেন।
মঙ্গলবার আর্জেন্টিনার ফকল্যান্ডস যুদ্ধের সাবেক সেনা সদস্য এবং পরিবেশবিষয়ক আইনজীবীরা দ্বীপপুঞ্জের উত্তরের জলসীমায় ব্রিটিশ কোম্পানি রকহপার ও ইসরাইলি কোম্পানি নাভিটাসের উদ্যোগে নেওয়া তেল প্রকল্প বন্ধের দাবিতে মামলা করেন।
মিলেই বলেন, এই প্রকল্প জাতিসংঘের একটি প্রস্তাব লঙ্ঘন করছে। ওই প্রস্তাবে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফকল্যান্ডস নিয়ে একতরফা কোনো পদক্ষেপ না নিতে ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনা—উভয় পক্ষকে আহ্বান জানানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আমরা এটি হতে দেব না।’ মিলেই আরও বলেন, ‘আমরা যদি এটি হতে দিই, তাহলে ব্রিটিশ সরকারকে দ্বীপগুলোতে তাদের দখল আরও শক্তিশালী করা এবং আমাদের সম্পদ শোষণের জন্য উৎসাহিত করা হবে।’
মিলেইর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন দেশটিতে তার জনপ্রিয়তা দ্রুত কমছে। আগামী বছর তিনি পুনর্নির্বাচনের জন্য লড়বেন, আর তার আগে এক বছরেরও কিছু বেশি সময় বাকি। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রায় ৩৪ শতাংশ আর্জেন্টাইন তার কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন