প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকার ধামরাইয়ে পশ্চিম দেপাশাই বংশী নদীতে নির্মাণাধীন ব্রিজের কাজ চার বছরেও শেষ হয়নি।
এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুল ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ দুই পাড়ের কয়েক হাজার মানুষ।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চলাচলের জন্য বাঁশের সাকো নির্মাণ করলেও সেটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাকো ব্যবহার করে চলাচল করতে গিয়ে প্রায় প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটে।
যার কারণে দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজের নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি উঠেছে।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সেতুটির কাজ চলছে।
তবে টেন্ডারে দেওয়া সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
স্থানীয়রা জানায়, ২০০৪ সালের দিকে বংশী নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণ করে তৎকালীন বিএনপি সরকার।
ব্রিজটি সরু হওয়ায় ২০২২ সালের ৩১ মে এটি ভেঙ্গে নতুন ব্রিজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য।
উপজেলা এলজিইডি দপ্তর থেকে জানা যায়, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স কামার জান আনোয়ারা জেবি উদ্বোধনের পর কাজ শুরু করে।
তাদের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২৩ জুন ২০২৩, কিন্তু তারা পূর্বের ব্রিজ ভেঙে মালামাল নিয়ে চলে যায়।
এরপর থেকেই স্থানীয়দের ভোগান্তি শুরু হয়।
পরবর্তীতে ৬ নভেম্বর ২০২৪ সালে রিটেন্ডারে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ১৬ হাজার ৪৬৮ টাকা ব্যয়ে ব্রিজটির নতুন চুক্তি পায় মেসার্স উপকূল করপোরেশন নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
তাদের নির্মাণকাজ শেষ করার কথা রয়েছে ১২ আগস্ট ২০২৬ সালের মধ্যে।
প্রায় ২ বছর সম্পন্ন হলেও ৬০ শতাংশ কাজ এখনও শেষ হয়নি।
ধীর গতিতে কাজ করায় ব্রিজ নির্মাণে ব্যবহৃত রডের মধ্যে মরিচা পড়ছে।
এতে কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে চরম হতাশা পরিলক্ষিত হচ্ছে।
স্থানীয় একজন মাদরাসা শিক্ষক বলেন, ব্রিজ নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে বাধাগ্রস্ত হওয়াসহ কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে।
শিশুরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
বারবার কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দিলেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।
রহিমা খাতুন নামের এক নারী জানান, ছেলেমেয়েদের নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে বাধ্য হন বাঁশের নড়বড়ে সেতু দিয়ে।
অনেক সময় পা আটকা পড়ে।
এছাড়া এর আগে একটি শিশু পানিতে পড়ে গিয়েছিল।
তিনি বলেন, কাজটি দ্রুত শেষ হলে সবার উপকার হয়।
ধীরগতির কাজ সম্পর্কে জানতে ঠিকাদার আমজাদ হোসেনকে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
ধামরাই উপজেলা প্রকৌশলী মিশুক কুমার দত্ত বলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কারণে দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধিসহ সামাজিক কিছু কারণে কাজের ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে।
তবে তিনি জানান, দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার জন্য তারা নিয়মিত মনিটরিং করছেন।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন বলেন, ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ায় নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ চলছে।
তিনি জানান, যাতে কাজ দ্রুত শেষ হয়, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন