প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক বদলি আদেশকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব এবং অভিযোগ থাকা কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দাবি, বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ায় প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক (প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ) মো. মুশফিকুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে (স্মারক নং: ২৫.৩৮.০০০০.৩০২.১৯.০১৭.২৪) ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করা হয়। আদেশটি প্রকাশের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ভুক্তভোগী কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ, যাদের মধ্যে কেউ কেউ মাত্র ছয় মাস আগে ঢাকার বাইরে থেকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত প্রধান কার্যালয়ে যোগদান করেছিলেন, তাদের কোনো সুস্পষ্ট প্রশাসনিক প্রয়োজন বা যৌক্তিক কারণ ছাড়াই আবার বদলি করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, এ ধরনের সিদ্ধান্ত প্রচলিত বদলি নীতিমালা ও প্রশাসনিক রীতিনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এছাড়া প্রকৌশল শাখায় ড্রাফটসম্যানের সংকট থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট শাখায় বদলী বা সংযুক্ত না দিয়ে মোঃ হানিফ মিয়া কে ভূমি শাখায় সংযুক্ত দেওয়ায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিশেষ সুবিধা দেওয়া বা নেয়ার প্রশ্ন জাগে। এতে করে বদলীর আদেশ প্রশ্নবিদ্ধ ও আর্থিক লেনদেনের আভাস পাওয়া যায়।
একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ, যাদের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালিয়াতি, ভুয়া চালান এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত বা বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে হিসাব সহকারী মোস্তফা হোসাইন ফুয়াদ এবং ড্রাফটসম্যান মো. হানিফ মিয়ার পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মোস্তফা হোসাইন ফুয়াদের বিরুদ্ধে সরকারি চালান জালিয়াতির মাধ্যমে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা হয়েছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তিনি অর্থ ফেরত দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করলে চাকরিতে বহাল থাকেন। এছাড়া অভিযোগকারীদের আরও দাবি, অতীতে তিনি জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সচিবের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বোর্ড সভার নেগেটিভ সিদ্ধান্তেকে পজিটিভ করে অনিয়মের মাধ্যমে কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন। এসব অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তৎকালীন চেয়ারম্যান শহীদুল্লাহ খন্দকার তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করেছিলেন বলে জানা যায়।
অভিযোগকারীদের দাবি, ফুয়াদের খালাতো ভাই ফারুককেও গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়েছে এবং একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব বদলি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
একইসঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, দুর্নীতির মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে অভিযুক্ত মো. অলিউল ইসলামকে নির্বাহী প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম এবং সাবেক সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আলমগীর হোসাইনের সময়ে প্রকাশিত কয়েকটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কার্যক্রমে অলিউল ইসলামকে সম্পৃক্ত করা হয়। তাদের দাবি, ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক নিয়োগ বাণিজ্য সংঘটিত হয়েছে।
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, অলিউল ইসলামের ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেন দুদকের মাধ্যমে তদন্ত করা হলে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র উঠে আসতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক (প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ) মো. মুশফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অন্যদিকে, অভিযোগে নাম আসা মোস্তফা হোসাইন ফুয়াদ, মো. হানিফ মিয়া, মো. অলিউল ইসলাম, ফারুক, চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম এবং সাবেক সদস্য মো. আলমগীর হোসাইনের বক্তব্যও এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সাধারণ মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন