প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালির পরে লোহিত সাগরেও সামরিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার সৃষ্টি হচ্ছে।
সৌদি আরবের ওপর নৌ-অবরোধ ঘোষণার অংশ হিসেবে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তাদের এই নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীর পাশাপাশি বাব আল-মানদাব প্রণালী ঘিরে বিশ্বজুড়ে আবারও জ্বালানি সরবরাহে দ্বিতীয় মারাত্মক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, হুথিরা 'এনসেলিয়া' ও 'লায়লা' নামে দুটি সৌদি ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে হামলা করেছে। বার্তা সংস্থা এসপিএ-র দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সৌদি কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা 'এনসেলিয়া' ট্যাঙ্কারে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হামলার পরপরই জাহাজটির সামনের দিকে আগুন লেগে যায় এবং সেখান থেকে জরুরি সংকেত পাঠানো হয়েছে। তবে দ্বিতীয় ট্যাঙ্কারটির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। এই হামলার ফলে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বাব আল-মানদাব প্রণালীতে ঝুঁকি এড়ানোর জন্য পাঁচটি তেলের ট্যাঙ্কার তাদের দিক পরিবর্তন করেছে এবং একাধিক বড় আন্তর্জাতিক চালানের জাহাজ ঘুরিয়ে উত্তর দিকের সুয়েজ খালের দিকে রওনা হয়েছে, যার ফলে গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত কয়েক সপ্তাহের সময় ও বিপুল খরচ বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় ইরানে টানা ১২ দিনের মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী, বিশেষ করে সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, সমুদ্রসীমায় নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও ইরান এখনও যথেষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা প্রদর্শন করছে।
বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ইরাক সীমান্তের কাছে মার্কিন মিসাইল হামলায় বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি, কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের গুরুত্বপূর্ণ পানি ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
সংকট আরও বাড়িয়ে ট্রাম্প সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে যদি কোনো জাহাজে হামলা চালানো হয়, তবে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ব্রিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হবে। জবাবে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড ও যৌথ সামরিক কমান্ড সতর্ক করে বলেছে, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনও বেসামরিক বা সরকারি অবকাঠামোয় হামলা করে, তবে পুরো অঞ্চলের তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে এক ফোটা তেলও রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না। উভয় পক্ষের এই তীব্র পাল্টাপাল্টি সামরিক অবস্থান এবং দ্বিতীয় নৌ-পথটি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা ও মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন