প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সম্প্রতি দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় একাধিক পরিবারের সদস্য একসঙ্গে নিহত হওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৬ বছর ১০ মাসে প্রায় ৩০০ পরিবার সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনার কারণে।
রোববার (৮ নভেম্বর) রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এই তথ্য প্রকাশ করেছে একটি প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনটি তৈরি করতে ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং সংগৃহীত তথ্য পর্যালোচনা করেছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১৯৩টি এবং পিতা-সন্তান নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১৫৯টি। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহত হয়েছেন ৩৮৬ জন এবং পিতা-সন্তান নিহত হয়েছেন ৩১৮ জন।
অটোরিকশা দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক। এসব দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ২১১টি, তিনজন নিহতের ঘটনা ১১৮টি, চারজন নিহতের ঘটনা ৯২টি, পাঁচজন নিহতের ঘটনা ৫৩টি, ছয়জন নিহতের ঘটনা ৩৮টি এবং সাতজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১৩টি। মোট ৫২৫টি অটোরিকশা দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৭২৮ জন।
মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৪৮টি, তিনজন নিহতের ঘটনা ৪৬টি, চারজন নিহতের ঘটনা ৩৯টি, পাঁচজন নিহতের ঘটনা ২৮টি, ছয়জন নিহতের ঘটনা ২০টি, ১১ জন নিহতের ঘটনা চারটি এবং ১৪ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে একটি। মোট ১৮৬টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭০৮ জন।
প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৩৪টি, তিনজন নিহতের ঘটনা ৩১টি, চারজন নিহতের ঘটনা ২৪টি এবং পাঁচজন নিহতের ঘটনা ১৯টি। মোট ১০৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩৫২ জন।
অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১১টি, তিনজন নিহতের ঘটনা ১৫টি, চারজন নিহতের ঘটনা ৯টি, পাঁচজন নিহতের ঘটনা সাতটি এবং আটজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে তিনটি। এসব ঘটনায় মোট ৪৫টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১৬২ জনের।
এছাড়া, বাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৭টি, তিনজন নিহতের ঘটনা নয়টি এবং চারজন নিহতের ঘটনা ছয়টি। মোট ৩২টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৮৫ জন। অন্যদিকে, পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে একই পরিবারের চারজন নিহত হওয়ার একটি ঘটনা ঘটেছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে পরিবারভিত্তিক প্রাণহানির কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে কাজে বা ঘুরতে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি, মহাসড়কে অটোরিকশার চলাচল, অধিকাংশ মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সের ফিটনেসের অভাব এবং এসব যানবাহনের চালকদের অদক্ষতা। এছাড়াও, চালকদের বিশ্রামহীনভাবে গাড়ি চালানো, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতাকেও দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারভিত্তিক প্রাণহানি কমানোর জন্য প্রতিবেদনে বেশ কয়েকটি সুপারিশও করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। মোটরসাইকেল আরোহীদের ভালো মানের হেলমেট ব্যবহার এবং ট্রাফিক আইন মেনে যানবাহন চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার ও সার্ভিস রোড নির্মাণ, গ্রামীণ সড়ক থেকে মহাসড়কে সরাসরি সংযোগ বন্ধ করে নিরাপদ সড়ক নকশা তৈরি এবং সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন চলাচল নজরদারির সুপারিশ করা হয়েছে।
একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের সক্ষমতা বাড়াতে শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন