প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিগত বছরগুলোর মতো এবার বাজেট উপস্থাপনের পর ‘মানি না, মানবো না’ স্লোগান ওঠেনি, এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। তিনি আরো বলেন, সমালোচনা অবশ্যই হবে, তবে তা হতে হবে গঠনমূলক। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাইকে মিলেমিশে দেশ গড়তে হবে।
শনিবার (২৭ জুন) সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে জয়নুল আবেদীন ফারুক একটি ‘সুন্দর বাজেট’ উপস্থাপনের জন্য অর্থমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য, শিল্প, কর্মসংস্থান ও নারী উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।
বাজেট নিয়ে বিরোধীদের গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়ে ফারুক বলেন, বহু বাজেট দেখেছি, কিন্তু এবার আমার একটা বিষয় ভালো লেগেছে যে, বাজেট উপস্থাপনের পর ‘মানি না, মানবো না’ আওয়াজটা আসেনি। তিনি মন্তব্য করেন, সমালোচনা আপনারা করুন, জবাব আমরা দেব। তবে সমালোচনা গঠনমূলক হতে হবে।
জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সাম্প্রতিক আত্মত্যাগ যেমন স্মরণ রাখতে হবে, তেমনি মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও কখনো ভোলা যাবে না। এ সময়ে তিনি অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বললেন, ‘অন্তত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতাটা বাড়িয়ে দিন, যাতে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে আপনার নাম লেখা থাকে।’
বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখায় তিনি অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তাঁর মতে, এ উদ্যোগ শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।
নারীর ক্ষমতায়ন ও তরুণদের বেকারত্ব দূরীকরণে বাজেটে গৃহীত পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংসদের সব রাজনৈতিক দলের সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ইতিহাস, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড এবং মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবতা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।
দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে ফারুক বলেন, ‘বিগত ১৬ বছর যারা দেশ শাসন করেছে তারা গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করেছে, মানুষকে নিষ্পেষিত করেছে। গত ১৭ বছরে ইলিয়াস আলীসহ অনেকে গুম হয়েছেন। আসুন সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাই মিলে দেশ গড়ি। বাংলাদেশ সবার আগে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন