প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক হামলাকে সম্পূর্ণ বেআইনি বলে উল্লেখ করে এর কড়া নিন্দা জানিয়েছেন।
তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে স্পষ্টভাবে জানান, ইরান কোনো ধরনের হুমকি বা চাপের কাছে মাথা নত করবে না। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ইরান পারমাণবিক প্রযুক্তি চায় অগ্রগতির জন্য, অন্য দেশ বা সমাজকে হুমকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়।
ভাষণে তিনি উল্লেখ করেন, ইরান নিরাপত্তার জন্য সহযোগিতা ও সমন্বয়ে আগ্রহী। একইসাথে, তিনি পারমাণবিক প্রযুক্তির ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানকে ঘিরে নেতিবাচক প্রচারের সমালোচনা করেন।
পেজেশকিয়ান বলেন, "আমরা অগ্রগতির জন্য জ্বালানি চাই।" তিনি কৃষি ও বিভিন্ন শিল্পের উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক প্রযুক্তি কিছু দেশের একচেটিয়া অধিকার হতে পারে না। ইরান তার অধিকার থেকে সরে যাবে না এবং মাথা নত করবে না। তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন, "পারমাণবিক অস্ত্র নয়, তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির ওপর কোনো সীমাবদ্ধতাও নয়।"
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, শান্তি যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত হবে না, তবে ইরানের জনগণ ও রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
পেজেশকিয়ান দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, হামলা থেকে নিজেদের সুরক্ষার জন্য ইরানকে শক্তিশালী হতে হবে, যাতে কেউ দেশটির বর্তমান বা ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলতে না পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে কেউ মনে না করে যে দেশটির শহরগুলোতে বোমা হামলার জবাব দেওয়া হবে না। এই কারণেই ইরানের সামরিক শক্তি মূলত প্রতিরক্ষার জন্য।
এসময় তিনি কোনো আইনি ভিত্তি ছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার বিষয়টি তুলে ধরেন এবং যুদ্ধের প্রথম দিনেই মার্কিন বিমান হামলায় নিহত শিশুদের ছবি বিশ্ব নেতাদের সামনে প্রদর্শন করেন। পেজেশকিয়ান বলেন, "আমি এমন এক ইরান থেকে এসেছি যেখানে কোনো আইনি ভিত্তি বা কারণ ছাড়াই আমাদের শ্রদ্ধেয় সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে।"
তিনি যুদ্ধের প্রথম দিনে ইরানের মিনাব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত কোমলমতি শিশুদের ছবি নিজের হাতে পডিয়ামে তুলে ধরে আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার দাবি করেন। পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হাসপাতাল ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
তিনি জানান, গত ২০০ বছরে ইরান কোনো দেশে হামলা চালায়নি, অথচ এখন তেহরানকে আঞ্চলিক অস্থিরতার উৎস ও সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। নিজেদের রক্ষা করতে ইরান পূর্ণ শক্তিতে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তবে সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে কখনো হামলা চালায়নি। তেহরান নিজেদের রক্ষায় কোনো প্রতিরোধ বা ব্যবস্থা নিতে কারোর অনুমতি বা অনুমোদনের প্রয়োজন মনে করে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন