প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অতীতের রাজনৈতিক বিভাজন, প্রতিহিংসা ও সংঘাতের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে জাতীয় স্বার্থে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের এক টেবিলে বসে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকর্মী ও আশ্চর্য ইনোভেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অর্ণব ওয়ারেস খান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে অর্ণব বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে পরস্পরের সঙ্গে সংলাপ ও সমঝোতার পথ খুঁজে নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও জাতীয় ঐক্যের পরিবেশ তৈরি হলে বাংলাদেশ একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরিদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জায়মা রহমান ও তারেক রহমান যেন মেজর জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ঐতিহ্য থেকে শিক্ষা নেন। একইভাবে শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও পরিবারের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ভূমিকা থেকেও শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অর্ণবের ভাষায়, রাজনৈতিক উত্তরাধিকার যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে বিভাজন তৈরি না করে; বরং দেশের স্বার্থে সহনশীলতা, পারস্পরিক সম্মান ও দায়িত্বশীলতার চর্চা তৈরি করে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেশের মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও বিবেকবোধ আরও শক্তিশালী হলে প্রতিহিংসামুক্ত একটি নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে উঠতে পারে।
পরিবেশ ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ প্রসঙ্গে
বক্তব্যের শেষদিকে পরিবেশ ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত বলে তিনি যেসব গোষ্ঠীর সমালোচনা করেন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের উদ্দেশে অর্ণব রূপকধর্মী ভাষা ব্যবহার করেন। নিজের নামের সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর নামের মিল টেনে তিনি বলেন, তাঁকে শুধু একটি ঝড়ের প্রতীক হিসেবে না দেখে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবেও বিষয়টিকে দেখা যেতে পারে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিকূলতা তাঁকে তাঁর লক্ষ্য থেকে সরাতে পারবে না। এ সময় তিনি সমুদ্র, ঝড় ও সুনামির বিভিন্ন উপমা ব্যবহার করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
তবে তাঁর বক্তব্যের এ অংশে ব্যবহৃত ‘সুনামি’, ‘মহাসাগর’সহ বিভিন্ন শব্দকে তিনি রূপক অর্থে ব্যবহার করেছেন বলে তাঁর বক্তব্যের ধরন থেকে বোঝা যায়।
ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও উৎসবের অধিকার
অর্ণব বলেন, সাধারণ মানুষের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, নিজস্ব পছন্দ এবং পরিবারকে নিয়ে ঈদ, পূজা কিংবা বড়দিনের মতো উৎসব উদযাপনের অধিকার রয়েছে।
তাঁর মতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো ব্যক্তিকে সবসময় সংঘাত ও রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখা উচিত নয়। রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরে ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক সম্পর্ক ও সামাজিক আনন্দেরও গুরুত্ব রয়েছে।
তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম গতানুগতিক রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে নতুন ধরনের ভাষা ও চিন্তা প্রত্যাশা করে। এ কারণেই তিনি শ্লেষ, পপ-কালচার এবং শাহরুখ খানের জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের সংলাপ ব্যবহার করে নিজের রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবনা প্রকাশ করছেন।
অর্ণব দাবি করেন, বক্তব্যের ভাষায় হাস্যরস থাকলেও নিজের রাজনৈতিক লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি সচেতন এবং বাইরের সমালোচনা বা বিতর্কের মধ্যেও শান্ত ও স্থির থাকার চেষ্টা করেন।
জামালপুর-২ আসনের নির্বাচনী স্মৃতি
অতীতে জামালপুর-২ আসনের নির্বাচনী পরিবেশের স্মৃতিচারণ করে অর্ণব বলেন, একসময় সেখানে রাজনৈতিকভাবে উত্তেজনাপূর্ণ ও ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করলেও তিনি নিজের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বিশ্বাস থেকে সরে আসেননি।
তাঁর দাবি, নির্বাচনী পোস্টার ও ব্যানারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ চার জাতীয় নেতার ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তিনি কোনো ধরনের আপস করেননি।
অর্ণব বলেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা থাকলেও নিজের আদর্শ ও বিশ্বাস প্রকাশের অধিকারকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।
আইনি লড়াই ও ন্যায়বিচারের দাবি
নিজের বিরুদ্ধে কথিত অন্যায় ও আইনি লড়াইয়ের প্রসঙ্গে অর্ণব ওয়ারেস খান বলেন, তাঁর ন্যায়বিচার-সংক্রান্ত একটি বিষয় আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি দাবি করেন, তাঁর সঙ্গে অন্যায় হওয়ার পর থেকেই তিনি প্রতিবাদ করে আসছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন পক্ষ তাঁকে চাপের মধ্যে ফেলে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি তাতে সম্মত হননি।
তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচনী মাঠে তাঁর সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে অন্যায় করা হয়েছিল এবং ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় বিষয়টির সত্যতা সামনে আসবে।
তবে আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত এসব অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য।
বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসার কথা
নিজের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অর্ণব বলেন, তিনি বাংলাদেশকে হৃদয়ের গভীর থেকে ভালোবাসেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মেজর জিয়াউর রহমান, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, তাজউদ্দীন আহমদ ও কমরেড মণি সিংহের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ভূমিকা থেকে তিনি নিজস্বভাবে অনুপ্রেরণা নেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন রাজনৈতিক ধারার ইতিবাচক দিকগুলোকে একসঙ্গে বিবেচনা করেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নিয়ে ভাবতে হবে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু সেই মতপার্থক্য যেন জাতীয় স্বার্থ, সামাজিক সম্প্রীতি ও মানুষের অধিকারের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।
‘নতুন বাংলাদেশ’-এর প্রত্যাশা
বক্তব্যের শেষাংশে অর্ণব ওয়ারেস খান একটি বিভাজনমুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
তাঁর মতে, তরুণ প্রজন্মের সামনে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে রাজনৈতিক পরিচয় বা মতপার্থক্যের কারণে কেউ ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সামাজিক মর্যাদা কিংবা মত প্রকাশের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবর্তে সংলাপ, পারস্পরিক সম্মান এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের স্বার্থই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন