প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাতের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে প্রায় ২০টি অস্থায়ী স্পিডব্রেকার বসানো হয়েছে। তবে, এই সাময়িক পদক্ষেপটি প্রত্যাশিত ফলাফল দিতে পারেনি; বরং সীতাকুণ্ডের কুমিরা থেকে বারো আউলিয়া পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে স্বল্প দূরত্বে অতিরিক্ত গতিরোধক স্থাপনের ফলে হাজার হাজার দূরপাল্লার যাত্রী ও চালক নতুন দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন।
জানা গেছে, গত ৩ নভেম্বর কুমিরায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) প্রধান ফটকের বিপরীতে একটি লরির ধাক্কায় একটি মিনিবাস উল্টে মাইশা মুশফিরাতের ওপর পড়ে যায়। এতে বাসের নিচে চাপা পড়ে এই শিক্ষার্থী প্রাণ হারান এবং আহত হন আরও দুজন। এ ঘটনার প্রতিবাদে নিরাপদ সড়ক, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং দায়ীদের বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রায় ছয় ঘণ্টা মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে রাখেন।
পরবর্তীতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে এসে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ ও অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদের প্রতিশ্রুতি দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। প্রশাসনের নির্দেশে অভিযান চালিয়ে ১৫টি মামলায় ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়, পাশাপাশি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব জেলা প্রশাসন পাঠায়।
তবে, স্থায়ী ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের অগ্রগতি না থাকায় গত বৃহস্পতিবার মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে চারটি পয়েন্টে পাঁচটি করে মোট ২০টি স্পিডব্রেকার বসানো হয়। এর পরদিন থেকেই সীতাকুণ্ড অংশে লরি, ট্রেইলার ও কনটেইনারবাহী ভারী যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বারবার ব্রেক কষার ফলে যানবাহনগুলোর স্বাভাবিক গতি থমকে যাচ্ছে, ফলে মূল্যবান সময় ও জ্বালানি অপচয় হচ্ছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. মোরসালিন মন্তব্য করেন, “মহাসড়কে শৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনা রোধের কথা বলা হলেও বারো আউলিয়া এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে অতিরিক্ত স্পিডব্রেকার নির্মাণের ফলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনা কমানোর এ উদ্যোগ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ালে তা দ্রুত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, মহাসড়কে সাময়িকভাবে দুর্ঘটনা এড়াতেই এসব স্পিডব্রেকার স্থাপন করা হয়েছে। পরবর্তীতে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ সম্পন্ন হলে এগুলো সরিয়ে ফেলা হবে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, কুমিরা এলাকায় যানজট ও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হলো কনটেইনার টার্মিনালকেন্দ্রিক ভারী যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চাপ, সড়ক দখল করে অবৈধ পার্কিং এবং বিপজ্জনক ইউটার্ন। এসব মূল সমস্যার স্থায়ী সমাধান না করে জাতীয় মহাসড়কে কারিগরি সমীক্ষা ছাড়াই হুট করে স্পিডব্রেকার বসানোর নীতি সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা।
মাইশার মতো আর কোনো শিক্ষার্থীর জীবন যেন অকালে ঝরে না যায়—এই প্রত্যাশায় সাময়িক স্পিডব্রেকার তুলে দ্রুত ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং বিজ্ঞানসম্মত সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জোরালো দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকেরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন