প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রাথমিক শিক্ষার সাফল্য যাচাইয়ের মানদণ্ড হিসেবে শিক্ষার্থীদের শেখার মানকে বিবেচনা করা হবে, এমনটি জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, অতীতে সাফল্য পরিমাপের জন্য নির্মিত ভবন ও বরাদ্দ ব্যয়ের উপর নির্ভর করা হতো। তবে এখন থেকে শিক্ষার্থীরা কতটা শিখছে, তার ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সাফল্য নির্ধারণ করা হবে। শিক্ষক, ডিপিও, ডিডি এবং মন্ত্রণালয় পর্যায়ের সকলের মূল্যায়ন এই মানদণ্ডের ভিত্তিতে হবে, তিনি এ কথা জানান।
বুধবার বিকালে যশোর পিটিআই অডিটোরিয়ামে খুলনা বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় কর্তৃক আয়োজিত এক কর্মশালার পর স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। কর্মশালায় পিটিআইয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে প্রতিবছর গড়ে সাত হাজার শিক্ষকের নিয়োগ প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন মামলার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে অনেক পদ শূন্য হয়ে আছে। প্রায় এক বছর আগে শুরু হওয়া নিয়োগ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে সাড়ে ১৩ হাজার শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম আগামী অক্টোবর থেকে শুরু হবে এবং চলতি বছরের মধ্যেই এই নিয়োগ সম্পন্ন হবে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে দায়িত্ব নিতে পারবেন না, বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। নবনিযুক্ত শিক্ষকরা দুই মাসের প্রাথমিক ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ শেষে শ্রেণিকক্ষে যাবেন, এরপর দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ চলবে। এ লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ের পিটিআই ও উপজেলা পর্যায়ের ইউপিটিসিগুলো নতুন করে সক্রিয় করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মনিটরিংয়ের আওতায় আনার কাজ চলছে। অতীতে মান কমে যাওয়ার কারণে অনেক অভিভাবক সরকারি প্রাথমিক থেকে সন্তানদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়েছেন। শিক্ষার মান বাড়ানো গেলে অভিভাবকরা আবার সরকারি প্রাথমিকের দিকে ফিরবেন, তিনি মনে করেন।
ক্রীড়াকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির জন্য ক্রীড়াবিষয়ক পাঠ্যবই ২০২৭ সালে এবং সম্পূর্ণ পাঠ্যক্রম অন্তর্ভুক্তি ২০২৮ সাল থেকে কার্যকর হবে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মাঠ ও প্রশিক্ষক ভাগাভাগির পাশাপাশি নতুন মাঠ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্কুল ফিডিং (মিড ডে মিল) কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ১৫১টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্পের আওতায় ৩০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে দুধ, ফর্টিফাইড বিস্কুট, সেদ্ধ ডিম, কলা ও বনরুটি দেওয়া হচ্ছে। আগামী বছর এই কর্মসূচি সারা দেশে সম্প্রসারণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের রান্নাকরা তাজা খাবার দেওয়ার সম্ভাবনা যাচাইয়ে পৃথক পাইলট প্রকল্পও শুরু করা হবে।
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মতিয়ার রহমান এবং প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক (উপবৃত্তি) মাসুদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন