প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) সংবাদদাতা।। বরিশালের বাকেরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার নাদিয়া বেগম (৩৮) নামে এক নারীর পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকেলে বরিশাল আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় আদালত চত্বরে সামনে পৌছালে সড়কের মধ্যে মাহিন্দ্রা গাড়িতে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে বাকেরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে থানা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের কৃষ্ণকাঠী গ্রাম থেকে নাদিয়া বেগমকে তার নিজ ঘর থেকে মাদক সহ গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার সকালে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নাদিয়ার কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন এবং মাদক বিক্রির নগদ ১৯ হাজার ৫৪০ টাকা ও ৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে নাদিয়ার পরিবারের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার করা হয়নি।
নিহত নাদিয়া বেগমের স্বামী মন্ঠু গাজী বলেন, পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম রেজার সাথে তার জমি নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে। যেই জমি সংক্রান্ত বিষয়ে আদালত একটি মামলা চলমান রয়েছে। টাকার বিনিময়ে পুলিশ দিয়ে তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করানো হয়েছে। পরবর্তীতে থানায় নিয়ে তার স্ত্রী নাদিয়াকে নির্যাতন করা হয়েছে। যে মানুষকে বাসা থেকে পুলিশ সুস্থ অবস্থায় নিয়ে গেলেন সে আদালতে যাওয়ার পথে কিভাবে মারা গেল। পুলিশের নির্যাতনেই তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন বলেন, নাদিয়াকে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছে থাকা ইয়াবা তিনি গিলে ফেলেন। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে দাবি করেন ওসি। তিনি আরও জানান, নাদিয়ার স্বামীর মন্ঠু গাজীর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও ডাকাতির মামলা রয়েছে। নাদিয়ার ছেলের বিরুদ্ধেও দুটি মাদক মামলা রয়েছে। মন্টু দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে মাদক ব্যবসা করে আসছে।
বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাকেরগঞ্জ সার্কেল) মাসুম বিল্লাহ বলেন, বাকেরগঞ্জে ধারাবাহিকভাবে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। এর অংশ হিসেবে নাদিয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। জেলহাজতে পাঠানোর আগে তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যান।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নাদিয়ার সঙ্গে থাকা ইয়াবা সেবনের কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত ও চিকিৎসকের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মাদকসহ কেউ আটক হলে এ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথা ছড়ায়। নাদিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং পুলিশ হেফাজতে তার ওপর কোনো ধরনের নির্যাতন হয়েছিল কি না, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।
নিহত নাদিয়া বেগমকে ময়নাতদন্ত শেষে আজ বিকেল ৫ টায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন দেওয়া হয়। তার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নাদিয়া বেগমের ৫ বছরের ছেলে রেদোয়ান ও আড়াই বছরের আজিফা নামের একটা কন্যাসন্তান রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন