প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের চরম বিপর্যয়ের পরে ধাক্কা সামলাতে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের অনমনীয় মনোভাব বজায় রেখেছেন। এরই মধ্যে দলের অধিকাংশ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আলাদা দল গঠন করার এবং লোকসভা সাংসদদের একটি তৃতীয় ব্লক তৈরি করায় ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’ দাবির লড়াইের জন্য তিনি রাজনৈতিক বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।
মমতা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাকে থামাতে হলে বিরোধীদের তাকে হত্যা করতে হবে। দলীয় বিদ্রোহীদের বিশ্বাসঘাতক আখ্যা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, তৃণমূলের প্রতীক তার এবং তার প্রতি অনুগত শিবিরের কাছেই থাকবে। তার এ অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে প্রতীক নিয়ে একটি দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, দলের প্রতীক কোথাও যাবে না এবং তা তারই থাকবে। তিনি বলেন, "আমাকে থামাতে হলে তোমাদের আমাকে মারে ফেলতে হবে।"
শনিবার (৪ জুন) তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান আরও একটি বড় ধাক্কা খান, যখন তার প্রতি অনুগত অন্যতম শীর্ষ নেত্রী ও দলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পদত্যাগ করেন। পরে চন্দ্রিমা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরে দেখা যান, এছাড়াও গত শুক্রবার কলকাতার তৃণমূলের মূল কার্যালয় দখল করে নেয় বিদ্রোহীদের সমর্থকরা।
চন্দ্রিমার পদত্যাগ প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, চন্দ্রিমা আগেই তাকে বাস্তব পরিস্থিতি এবং পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন। কারণ চন্দ্রিমার ছেলে এর আগে তৃণমূল বিরোধী শিবিরের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন। তবে বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে আসা কোনো উপদেষ্টা পদের প্রস্তাব তিনি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে কখনোই বিদ্রোহীদের সঙ্গে হাত মেলাবেন না। মমতা দাবি করেন, মূলত চাপের মুখেই বিদ্রোহীরা দল থেকে চলে গেছে। তিনি আরও বলেন, "আমি বা আমার দল বিজেপির কোনো চাপের কাছে মাথা নত করব না।"
গত শুক্রবার তৃণমূলের কার্যালয় দখল এবং সেখানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনার পর মমতা তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "যারা গতকাল তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে গিয়ে তালা লাগিয়েছিল, তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই—আমরা ওই অফিসটি ভাড়া নিয়েছিলাম এবং ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আমাদের লিজ রয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "কোনো ব্যক্তি দল ছাড়তেই পারেন, কিন্তু তার মানে এই নয় যে দল নামক প্রতিষ্ঠানটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এটি দলের সম্পত্তি, আমি বা অন্য কেউ জোর করে ‘মা, মাটি, মানুষ'-এর এই সম্পত্তি দখল করতে পারে না।"
২০১১ সালে সাড়ে তিন দশকের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতার কেন্দ্রে আসা এই নেত্রী মনে করিয়ে দেন, তৃণমূলের আদর্শ পুরোপুরি বিজেপি বিরোধী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "এই প্রতীক আমার দেওয়া। আমি ২০২৬ সালের নির্বাচনে আপনাদের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছিলাম। নির্বাচনের মাত্র দুই মাসের মধ্যে আপনারা কীভাবে এমন বিশ্বাসঘাতক হলেন? সব কিছুর একটা সীমা থাকা উচিত।"
চন্দ্রিমার বিদায়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, তিনি নিজেই এখন জাতীয় ও রাজ্য স্তরে দলের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিচ্ছেন এবং তার কালীঘাটের বাসভবনে অবস্থিত কার্যালয়টিই এখন থেকে তৃণমূলের মূল কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হবে। উল্লেখ্য, রাজ্য নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর থেকেই দলে এই ভাঙন শুরু হয়, যেখানে বিদ্রোহীরা মমতার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ইতোমধ্যে ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক এবং ২০ জনেরও বেশি লোকসভা সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দল থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন। পদত্যাগের পর চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তার সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা থাকবে, তবে দলে পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থার অভাবের কারণেই তিনি এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
সূত্র: এনডিটিভি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন