প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের ভারপ্রাপ্ত রেকর্ড কিপার জুয়েল খানের বিরুদ্ধে ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা দিতে নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত অর্থ দিতে অনীহা প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট কাজ পেতে বিলম্ব ও নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে তাদের নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সরকারি ফি বা বৈধ খরচের বাইরে রেকর্ড কিপার জুয়েল খান অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন। অতিরিক্ত অর্থ দিতে রাজি না হলে কাজ বিলম্বিত বা জটিল করে দেওয়ার আশঙ্কা দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জমির নকশা, পর্চা, দাগের সূচি, কেসের নকল এবং পর্চায় ভুল সংশোধনসংক্রান্ত ৫৩৪/৩৩ ধারায় আবেদনসহ বিভিন্ন নথি ও রেকর্ডসংক্রান্ত কার্যক্রমে রেকর্ড কিপারের দায়িত্ব রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব সেবা নিতে গিয়ে সরকারি নির্ধারিত ফির তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অর্থ দিতে হচ্ছে। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, একটি নকশার সরকারি নির্ধারিত ফি ৫০০ টাকা হলেও এর বিপরীতে ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। একইভাবে একটি পর্চার জন্য ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকা, দাগের সূচির জন্য ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা এবং কেসের নকলের জন্য ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া পর্চায় ভুল সংশোধনসংক্রান্ত ৫৩৪/৩৩ ধারায় আবেদন গ্রহণ ও কার্যক্রম সম্পন্ন করার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জমির মালিকদের সঙ্গে লক্ষাধিক টাকার অর্থ লেনদেনের বিষয়ে আলোচনা করা হয় বলেও তাদের অভিযোগ।
অভিযোগ রয়েছে, জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের ডেসপাচ রাইডার পদে কর্মরত নাঈমের মাধ্যমে এসব অর্থ লেনদেন করা হয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে নাঈমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, “আমরা একপ্রকার জিম্মি হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছি। টাকা দিতে না চাইলে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা তৈরি হয় এবং কাজ পেতে ভোগান্তি বাড়ে।”
ভুক্তভোগীদের দাবি, ভূমিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সরকারি সেবা পেতে সাধারণ মানুষ যাতে নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য না হন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
### অভিযোগ অস্বীকার রেকর্ড কিপার জুয়েলের
অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের ভারপ্রাপ্ত রেকর্ড কিপার জুয়েল খানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, *“আমার নামে যে অভিযোগগুলো রয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।”*
### কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
এ বিষয়ে বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট জোনের যুগ্মসচিব মৃধা মো. মোজাহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট নথি, সরকারি ফি’র নির্ধারিত তালিকা, অর্থ লেনদেনের প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন